ওয়াশিংটনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক শান্তি চুক্তির শর্তগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করার বিষয়ে ইরানকে একটি কঠোর ও চূড়ান্ত বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে তেহরান যদি এই চুক্তির কোনো শর্ত অমান্য করে তবে ওয়াশিংটন তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় যেকোনো ধরনের কঠোর আইনি ও সামরিক ব্যবস্থা নিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করবে না। একই সঙ্গে ইরানের জন্য অবমুক্ত করা বিশাল অঙ্কের রাষ্ট্রীয় অর্থ কোন খাতে এবং কীভাবে ব্যয় করা হবে, সে বিষয়েও মার্কিন প্রশাসনের মূল অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি।
সোমবার (২২ জুন) হোয়াইট হাউসে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে উদ্দেশ্য করে সরাসরি বলেন যে, ‘ইরান যদি চুক্তি অনুযায়ী না চলে, অথবা তারা যদি ঠিকঠাক আচরণ না করে, তাহলে যা করার প্রয়োজন হবে আমি তাই করব।’
তার এই বক্তব্য থেকে পরিষ্কার যে চুক্তির মাঠপর্যায়ের সফল বাস্তবায়ন নিয়ে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর নিবিড় নজরদারি রাখছে। এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি বিশেষ অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছিলেন।
এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি সই হওয়ার ঠিক তিন মাস আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত ও সামরিক স্থাপনার ওপর একযোগে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছিল।
ওই হামলার জবাবে ইরানও অত্যন্ত জোরালোভাবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা কয়েকটি বন্ধুভাবাপন্ন দেশে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। দুই পক্ষের এই দীর্ঘ সংঘাতের পর মধ্যস্থতাকারীদের বিশেষ তৎপরতায় এই শান্তি চুক্তিটি সম্পন্ন হয়।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে ইরানের যেসব অবরুদ্ধ অর্থের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হচ্ছে, চুক্তি অনুযায়ী সেই অর্থগুলো কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিজাত খাদ্যসামগ্রী কেনার জন্যই ব্যবহার করার কথা ছিল।
নিজের এই অর্থনৈতিক অবস্থানের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সরাসরি উল্লেখ করেন যে, ‘ওই অর্থ শেষ পর্যন্ত খাদ্য কেনার মাধ্যমেই আবার ফিরে আসবে। তাদের খাদ্যের খুব প্রয়োজন। দেশটিতে ৯ কোটি ১০ লাখ মানুষ রয়েছে, কিন্তু তারা নিজেদের জনগণকে খাওয়াতে পারছে না। ফলে আমরা যে অর্থ ছাড় করছি, তা শেষ পর্যন্ত আমাদের কৃষকদের কাছেই ফিরে যাবে।’
উল্লেখ্য যে ইরানের মাটিতে যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক বড় ধরনের স্থল ও আকাশ অভিযানের কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখ লাখ নাগরিক ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
এই দীর্ঘস্থায়ী ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়ে অশোধিত তেলের মূল্যে বড় ধরনের অস্থিরতা ও মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছিল।
সূত্র: এনডিটিভি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েনে ইরান
যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি লঙ্ঘন করলে কোনভাবেই সহ্য করবে না ইরান: মোহাম্মদ বাঘের