কাতারে এলএনজি কারখানায় নিহতরা ভারত-পাকিস্তানের

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৬, ১২:৫৭

কাতারের প্রধান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১৩ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এই ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনায় আরও ৫০ জনেরও বেশি কর্মী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। 

সোমবার (২২ জুন) কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল কাবি দাপ্তরিকভাবে জানিয়েছেন যে একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে রাস লাফফান এলএনজি কমপ্লেক্সে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল কাবি দেশের প্রধান এই গ্যাস কারখানায় হওয়া বিস্ফোরণের পেছনে কোনো ধরনের নাশকতামূলক তৎপরতা, বাইরের দেশের আক্রমণ বা শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা সম্পূর্ণরূপে নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে আশ্বস্ত করে আরও বলেন যে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কারণে বিশ্ববাজারে কাতারের এলএনজি রপ্তানি করার নিয়মিত কার্যক্রমে কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

উল্লেখ্য যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর সামরিক হামলা শুরু করার পর তেহরানও পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। 

ইরানের ওই ব্যাপক পাল্টা হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল কাতার এবং গত মার্চ মাসে ইরানি আক্রমণের মুখে সুরক্ষার স্বার্থে কাতারের এই বিশাল গ্যাস কমপ্লেক্সটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর কারখানার কর্মীরা সেটি আবার সচল করার কাজ শুরু করার মুহূর্তেই এই আকস্মিক বিস্ফোরণটি ঘটে।

কারখানার বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী বলেন যে, ‘এটি একটি দুর্ঘটনা ছিল, কোনো নাশকতা বা শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড নয়। জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রটিতে উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছিল। মাত্র দুই দিন আগে এটি আবার চালু করা হয়।’ 

মন্ত্রী আরও নিশ্চিত করেছেন যে এই বিস্ফোরণে নিহত হওয়া সব শ্রমিকই মূলত ভারত ও পাকিস্তানের প্রবাসী নাগরিক, তবে আহতদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা বা চিকিৎসার বিষয়ে তিনি নতুন কোনো তথ্য দেননি।

অন্যদিকে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা ইন্টেরিয়র মিনিস্ট্রির পক্ষ থেকে এক জরুরি বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে কারখানায় বর্তমানে কোনো ধরনের বিষাক্ত গ্যাস দুর্ঘটনা বা ক্ষতিকারক লিকেজ হয়নি যা স্থানীয় জননিরাপত্তার জন্য নতুন কোনো ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিখ্যাত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি মূলত এই বৃহৎ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রটি পরিচালনা করে থাকে।

বিস্ফোরণটি ঠিক কোন ইউনিটে ঘটেছে বা এর ফলে রাষ্ট্রীয় কারখানার মোট কতটা আর্থিক ও পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে কাতারএনার্জির পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল কাবি একই সঙ্গে এই রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির প্রধান নির্বাহী বা সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তিনি জানিয়েছেন যে এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

ইত্তেফাক/টিএইচ