লিওনেল মেসি এখন বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে। তবে ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমের বিশ্বাস, সেই রেকর্ড একদিন ভেঙে দেবেন কিলিয়ান এমবাপে। ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করে আরেকটি মাইলফলক স্পর্শ করার পর নিজের অধিনায়ককে নিয়ে এমনই আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করেছেন ফরাসি কোচ।
ইরাককে ৩-০ গোলে হারানো ম্যাচে দুটি গোল করেন এমবাপে। এর ফলে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬-তে। তিনি ছুঁয়ে ফেলেছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের দীর্ঘদিনের রেকর্ড। এখন তার সামনে আছেন শুধু লিওনেল মেসি, যিনি অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৮-তে নিয়ে গেছেন।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দেশম বলেন, ‘রেকর্ড তো ভাঙার জন্যই তৈরি হয়। আর এখন সে একটি প্রতিকী সংখ্যাও স্পর্শ করেছে। তার ১০০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়ে গেছে। সে সবসময় গোল করেছে এবং ভবিষ্যতেও আরও গোল করবে।’
মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের প্রসঙ্গ টেনে ফ্রান্স কোচ বলেন, ‘মেসিকে দেখুন, রোনালদোকে দেখুন। এমবাপে তাদের বয়স পর্যন্ত খেলবে কি না, আমি নিশ্চিত নই। কিন্তু যতদিন সে মাঠে থাকবে এবং নিজেকে ভালো অনুভব করবে, ততদিন সে অনেক গোল করবে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রতিবারই সে নিজের রেকর্ড ভাঙে এবং নিজেকে আরও উঁচুতে নিয়ে যায়। তার সেই সামর্থ্য রয়েছে।’
ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচটি এমবাপের জন্য আরও একটি কারণে বিশেষ ছিল। এটি ছিল তার শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। তবে ম্যাচটি স্বাভাবিক ছিল না। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকায় দুই গোলের মাঝে প্রায় তিন ঘণ্টার ব্যবধান তৈরি হয়।
সেই বিরতির সময় কী করেছিলেন খেলোয়াড়রা, এমন প্রশ্নে মজা করে দেশম বলেন, ‘আমরা তাস খেলেছি।’ এরপর হাসতে হাসতেই যোগ করেন, ‘আসলে আমরা অপেক্ষা করছিলাম। বারবার সময় পিছিয়ে যাচ্ছিল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল আবার ২০ মিনিট ওয়ার্ম-আপের সুযোগ পাওয়া, যাতে কোনো ঝুঁকি না থাকে।’
দেশম জানান, ভারী বৃষ্টির কারণে মাঠের অবস্থা খুব কঠিন হয়ে গিয়েছিল এবং এমন অভিজ্ঞতা তার কোচিং ক্যারিয়ারে এই প্রথম।

