একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি

গান গাওয়ার জন্য নয়, অধ্যাপক তাশরিকের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অনিয়মের অভিযোগ 

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ২০:৩৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের ধারণা, গান গেয়ে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, সিদ্ধান্তটির পেছনে রয়েছে আর্থিক অনিয়ম, একাডেমিক কার্যক্রমবহির্ভূত কর্মকাণ্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার মতো একাধিক অভিযোগ।

সোমবার (২২ জুন) রাতে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো তদন্তে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী  বলেন, ‘আর্থিক অনিয়ম ও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডসহ নানা অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে অব্যাহতি দিয়েছে সিন্ডিকেট।’ তিনি আরও জানান, বিষয়গুলো তদন্তে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

বাংলা বিভাগের সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে বিভাগের একাডেমিক কমিটি অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। পরে তিনি লিখিত জবাব দিলেও তা কমিটির কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি।

বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর বলেন, এমফিল ও পিএইচডি গবেষকদের কাছ থেকে বিধিবহির্ভূতভাবে অর্থ দাবি ও গ্রহণের অভিযোগের সত্যতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, তার লেখা বই বা পত্রিকা না কিনলে মূল্যায়নে তারা ন্যায্য নম্বর থেকে বঞ্চিত হতেন।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিবের বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিও নিয়েও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়। বিভাগের একাডেমিক কমিটির সদস্যরা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘তাশরিক স্যারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন অনেক শিক্ষার্থী।’

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিবের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা এবং বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

উল্লেখ্য, কয়েক মাস ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে আলোচনায় আসেন অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিব। শাহ আবদুল করিম, জেমস ও ফজলুর রহমান বাবুর গান গেয়ে তিনি ফেসবুকে অনেকের নজরে পড়েন। অনেক শ্রোতা তার গান শেয়ার করে প্রশংসা করলেও ‘ভিন্নধর্মী সুরে’ গান গাওয়ায় অনেকে আবার তাকে নিয়ে ট্রল (বিদ্রূপ) করেন।

ইত্তেফাক/এসজেএস