ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখতে গিয়ে এক সাবেক শিক্ষার্থী দম্পতিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং এক নারীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে শিবির নেতা ও হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক সাজু মিয়ার বিরুদ্ধে।
গত শুক্রবার রাত এগারোটার দিকে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল মাঠে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হল প্রাধ্যক্ষকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী সাবেক শিক্ষার্থী মোহতাসীন বিল্লাহ জানান, ফ্রান্স ও নরওয়ের মধ্যকার ম্যাচ দেখতে তারা ছয়জন শহীদুল্লাহ হলে যান। তাদের মধ্যে ছিলেন ২০১৬-১৭, ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী, বর্তমান শিক্ষার্থী এবং একটি দম্পতি। হলে প্রবেশের আগে তারা নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্টারে নাম লিখে প্রবেশ করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, খেলা শুরুর আগে কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে তাদের পরিচয় জানতে চান। পরিচয় দেওয়ার পর তাদের সঙ্গে থাকা নারীকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় এবং বয়েজ হলে নারী নিয়ে প্রবেশের বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়। একপর্যায়ে আরও কয়েকজন এসে তাদের ঘিরে ধরেন। তাদের মধ্যে একজন নিজেকে হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক পরিচয় দিয়ে হল ত্যাগ করতে বলেন। অপর একজন নিজেকে ক্রীড়া সম্পাদক পরিচয় দিয়ে তাদের ছবি তুলে হলের গ্রুপে প্রকাশ করার কথাও বলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মোহতাসীন বিল্লাহর দাবি, তারা জানান যে সঙ্গে থাকা নারীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং উপস্থিত আরেকজনের স্ত্রী। এছাড়া তারা পূর্বেও বিশ্বকাপ উপলক্ষে একই হলে খেলা দেখেছেন। এরপরও তাদের কোনো ব্যাখ্যা না শুনে হল থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয়। পরে হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন, দুঃখ প্রকাশ করেন এবং প্রভোস্টের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
মোহতাসীন বিল্লাহ আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পরবর্তীতে অভিযুক্ত সাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে অভিযোগ অস্বীকার করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
অভিযোগ বিষয়ে করে সাজু মিয়া বলেন, ‘গতকাল রাতে কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী মাঠে বসে গল্প করছিলেন। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পাওয়ার পর প্রথমে হলের স্টাফদের মাধ্যমে তাদের সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়। এরপরও তারা অবস্থান করলে আমি নিজে গিয়ে অনুরোধ জানাই।’
তিনি আরও দাবি করেন, উপস্থিত ব্যক্তিদের একজন নিজেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার পরিচিত বলে পরিচয় দেন। তারা আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সাজু মিয়া বলেন, ‘এ সময় ওই নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে আমার কোনো সিঙ্গেল ওয়ার্ডও কথা হয়নি এবং হেনস্তার অভিযোগেরও কোনো ভিত্তি নেই। যদি বলতে পারেন যে আমি তার সঙ্গে একটি শব্দও বিনিময় করেছি, তাহলে আমি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে রাজি। এ বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’
এবিষয়ে জানতে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়াকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা পুলিশিংয়ের নামে কাউকে হেনস্তা করতে পারে না। কোনো অভিযোগ থাকলে প্রক্টর অফিস, হল প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত প্রক্টর অফিসে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

