ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় যোবায়ের পারভেজ (৩৫) নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক কর্মীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৭ জুন) ভোরে উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের নিজকুঞ্জরা সমিতি বাজারসংলগ্ন একটি পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত যোবায়ের পারভেজ নিজকুঞ্জরা গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে শাহদাত ও মামুন নামে দুই ব্যক্তির সঙ্গে যোবায়েরের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা বিষয়টির মীমাংসা করে দেন। তবে রাতেই কয়েকজন ব্যক্তি তাকে দোকানে আসার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
শনিবার ভোরে স্থানীয়রা বাজারসংলগ্ন একটি পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি যোবায়ের পারভেজের বলে শনাক্ত করেন। নিহতের ভাই নয়ন জানান, মরদেহের দুই হাত, দুই পা ও গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।
উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ওমর ফারুক বলেন, যোবায়ের পারভেজ ইউনিয়ন যুবলীগের কর্মী ছিলেন এবং ইউনিয়ন যুবলীগের সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন।
পুলিশ জানায়, যোবায়ের পারভেজের বিরুদ্ধে ডাকাতি, পুলিশের ওপর হামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া তিনি বালু উত্তোলন ও নৌযান ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার বিরুদ্ধে চোরাচালান, মাদক ব্যবসা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগও ছিল।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাহদাত ও মামুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
ঘোপাল তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) রতন দেবনাথ জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শাহদাত ও মামুন নামে দুই ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।

