ইতালিতে স্বামী-স্ত্রী-মেয়ে খুন

নোয়াখালীর বাড়িতে উড়ো চিঠিতে এসেছিল হত্যার হুমকি

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৬, ২০:৪২

ইতালির রাজধানী রোমে নিজ বাসায় ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একই পরিবারের তিন সদস্য। এই ঘটনার প্রায় এক বছর আগে গত বছরের পরিবারটির গ্রামের বাড়িতে ডাকাত দলের একটি উড়ো চিঠি এসেছিল বলে দাবি স্বজনদের।

এ ঘটনায় নিহতরা হলেন- উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের ছেলে কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সি মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা।

প্রায় এক বছর আগের উড়ো চিঠিতে মূলত রোমে নিহত কামাল উদ্দিন বাবুলের বাবা সিরাজুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা-পয়সা দাবি করা হয়। আর দাবি পূরণ না হলে গৃহকর্তার প্রবাসী ছেলে ও নাতিকে হত্যার পাশাপাশি পরিবারের নারী সদস্যদের নির্যাতনের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। পরিবার বিষয়টি থানাকেও জানিয়েছিল।

স্বজনদের ভাষ্য, ওই চিঠিতে লেখা ছিল- ‘আসসালামু আলাইকুম জনাব সিরাজ মিয়া। আশা করি ভাল আছেন। খুব শীঘ্রই রাতে আপনার সঙ্গে আপনার ঘরে দেখা হবে। আর আমরা আসলে যদি আমাদের চাহিদা মতো স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা পয়সা না পাই, আপনার ছেলেকে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিব এবং আপনার ছেলের বউয়ের.....(অপ্রকাশযোগ্য)।’

এতে আরও লেখা ছিল, ‘সিরাজ মিয়া কথাটা যাতে মাথায় থাকে। খুব শীঘ্রই তোমার বাড়িতে আমরা আসতেছি। দেখা হবে সময় মতো রাতে। যদি সিরাজ মিয়া তোমার ছেলে নাতি এবং বউয়ের ইজ্জত বাঁচাতে চাও, তাহলে টাকা পয়সা গহনা সব আমাদের চাহিদা মতো রাখ, যাতে আমরা খালি হাতে ফিরে না যাই। আমরা জানি, তোমার ঘরে প্রচুর পরিমাণে গহনা আছে। আর যদি সব কিছু ঠিকঠাক না পাই তোমার ছেলে এবং নাতিকে দুনিয়া ছাড়া করব এবং তোমার ছেলের বউকে আমরা সবাই মিলে গণধর্ষণ করব তোমার সামনে, কথাটা যেন মনে থাকে সিরাজ মিয়া। আসসালামু আলাইকুম। ইতি, তোমাদের স্নেহধন্য, লাল শাহ্ ডাকাত (লাল বাহিনীর প্রধান)।’

সিরাজুল ইসলামের পাঁচ মেয়ে ও একমাত্র ছেলে কামাল। একসময় কামাল একাই ইতালিতে থাকতেন। পরে তিনি তার পরিবারকেও সেখানে নিয়ে যান। ইতালি যাওয়ার আগে কামালের পরিবার কিছুদিন বসিরহাট ও ঢাকায়ও ভাড়া বাসায় বসবাস করেছে।

মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন,

‘এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এর আগে একটি অজ্ঞাতনামা চিঠির মাধ্যমে তাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেসময় আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম।’

কোম্পানিগঞ্জ থানার ওসি নুরুল হাকিম সাংবাদিকদের বলেন, সেসময় মৌখিকভাবে বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছিল। আমরা নিয়মিত উনার পরিবারকে নিরাপত্তা দিয়েছি। তার মধ্যেই আজ ইতালিতে তিনজনকে হত্যার বিষয়টি জানতে পেরেছি। 

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার রাতে রোমের পার্শ্ববর্তী ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর অ্যাপার্টমেন্ট থেকে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৪০), তার স্ত্রী আরজু বেগম (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সি মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা। আহত বড় ছেলে আমির হোসেন অয়নকে (২০) উদ্ধার করে রোমের জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনজনের মরদেহ বর্তমানে রোমের একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। 

এদিকে ইতালি পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের সময় অ্যাপার্টমেন্ট থেকে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে রোম পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (স্কোয়াড্রা মোবাইল) ও ফরেনসিক দল তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি চুরি বা ডাকাতির ঘটনা নয়। তদন্তকারীদের সন্দেহ, হামলাকারী পরিবারের পরিচিত কেউ হতে পারে। ব্যক্তিগত শত্রুতা বা অন্য কোনো কারণ এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এপি