ইরানকে বাদ দিতে পাতানো ম্যাচের অভিযোগ, মুখ খুললেন অস্ট্রিয়া কোচ

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৬, ১৮:০৮

আলজেরিয়াকে হারাতে তার দল সর্বাত্মক চেষ্টা করবে বলে ম্যাচের আগে জানিয়েছিলেন অস্ট্রিয়ার কোচ রালফ রাংনিক। একই সঙ্গে, ১৯৮২ বিশ্বকাপের সেই কুখ্যাত ‘ডিসগ্রেস অব গিজন’ (গিজন কলঙ্ক)-এর সঙ্গে চলমান পরিস্থিতির যেকোনো তুলনা তিনি এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।

আজ আলজেরিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রিয়ার ৩-৩ গোলে নাটকীয় ড্র হওয়া ম্যাচের পর ঠিকই গুঞ্জন আর আলোচনায় ‘পাতানো’ প্রসঙ্গ। অবশ্য শ্বাসরুদ্ধকর ড্রয়ের পর আলজেরিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রিয়া নিজেদের সুবিধার্থে ‘পাতানো ম্যাচ’ খেলেছে—এমন গুঞ্জনকে এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়ে উপহাস করেছেন অস্ট্রিয়া কোচ রালফ রাংনিক। ম্যাচের সেই অবিশ্বাস্য ও নাটকীয় শেষ মুহূর্তগুলোই প্রমাণ করে যে দুই দলের মধ্যে আগে থেকে কোনো গোপন আঁতাত ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

এই ড্রয়ের ফলে ‘জে’ গ্রুপের রানার্স-আপ হিসেবে অস্ট্রিয়া এবং অন্যতম সেরা তৃতীয় দল হিসেবে আলজেরিয়া—উভয় দলই শেষ ৩২-এ (নকআউট পর্বে) জায়গা করে নিয়েছে। এই ড্রয়ের পর আগামী ২ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ায় বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে একবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হবে অস্ট্রিয়া।

এই ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই দুই দলের এমন সুবিধাজনক ফলাফলের সম্ভাবনা নিয়ে চারদিকে ব্যাপক আলোচনা ও গুঞ্জন চলছিল। কিন্তু রাংনিক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ম্যাচের এই রোমাঞ্চকর সমাপ্তি সব ধরনের ষড়যন্ত্রের তত্ত্বকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেবে।

৬৭ বছর বয়সী কোচ রাংনি বলেন, ‘যখন একটি ম্যাচ ৩-৩ গোলে ড্র হয়, তখন কেউ কোনোভাবেই ধারণা করতে পারে না যে এটি আগে থেকে ঠিক করা চুক্তি ছিল; বিশেষ করে ম্যাচের শেষ ৯০ সেকেন্ডে আমরা মাঠে যা দেখেছি, তারপর তো প্রশ্নই ওঠে না।’

ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে যেন গোল-বন্যা বয়ে গিয়েছিল। খেলার ৯৩ মিনিটে আলজেরিয়ার অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজ গোল করে তার দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। কিন্তু নাটকের তখনও বাকি ছিল! বদলি খেলোয়াড় সাশা কালাইজিচ ম্যাচের একদম শেষ শটে গোল করে অস্ট্রিয়াকে সমতায় ফেরান।

রাংনিক বলেন, ‘খেলার আর মাত্র তিন মিনিট বাকি, এমন সময় যদি কেউ বলত যে এই ধরনের কিছু ঘটতে যাচ্ছে, তবে আপনি তাকে নিশ্চিত পাগল বলতেন। আমি প্রায় ৪০ বছর ধরে কোচের দায়িত্ব পালন করছি, কিন্তু এত নাটকীয় মোড় এবং এমন অপ্রত্যাশিত রূপ নেওয়া কোনো ম্যাচ আমার স্মৃতিতেও নেই।’

অস্ট্রিয়া কোচ আরও যোগ করেন, ‘সবাই যেখানে একটা ম্যাড়মেড়ে ০-০ বা ১-১ গোলের ড্র দেখার অপেক্ষায় ছিল, সেখানে ম্যাচটি শেষ হলো ৩-৩ ব্যবধানে! এটি অবিশ্বাস্য। ড্রেসিংরুমের সবাই এখন আনন্দে পাগলপ্রায়। আলফ্রেড হিচককও যদি এমন কোনো নাটক লিখতেন, তাহলেও সম্ভবত আমি বলতাম তিনি পুরোপুরি উন্মাদ হয়ে গেছেন।’

ম্যাচের শেষ দিকে দুই দলই ড্রয়ের মানসিকতা নিয়ে খেলছিল—এমন দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন এই জার্মান কোচ। তিনি মনে করিয়ে দেন, রিয়াদ মাহরেজের ওই গোলের আগ পর্যন্ত দুই দলের খেলোয়াড়রাই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে লড়ছিল, ‘ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিট যারা দেখেছেন, তারা সবাই ভালো করেই জানেন যে খেলোয়াড়রা কেবল একটা ড্রয়ের জন্য খেলছিল—এমন কোনো ইঙ্গিতই সেখানে ছিল না। আমার মনে হয় তারা জিততেই চেয়েছিল।’

রাংনিক আরও বলেন, ‘কেউ আমাকে এসে বলতে পারবে না যে হুট করে ৯৩ মিনিটে কেউ এমন পরিকল্পনা করবে—'আচ্ছা চলো, এখন আরেকটা গোল করা যাক।' আমার মনে হয় আলজেরিয়ার দুই-একজন খেলোয়াড়ের মাথায় হয়তো (ড্র ধরে রাখার) এমন ভাবনা এসে থাকতে পারে, কিন্তু তাদের বাকি স্কোয়াড বা আমার দলের ক্ষেত্রে এমনটা মোটেও সত্যি ছিল না।"

৪৪ বছরের মধ্যে অস্ট্রিয়াকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তোলার পর, এই অভাবনীয় সাফল্যের রেশ এখনো কাটিয়ে উঠতে পারছেন না বলে জানান রাংনিক। আবেগপূর্ণ কণ্ঠে বলেন, ‘আমি একই সাথে স্বস্তি পাচ্ছি, আবার নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারছি না, আমি ভীষণ খুশি। এখনো পুরো বিষয়টা আমার কাছে অবিশ্বাস্য লাগছে। এই সুন্দর স্বপ্ন থেকে জেগে ওঠার জন্য মনে হচ্ছে কেউ আমাকে একটা চিমটি কাটুক!’

ইত্তেফাক/এনএ