একেবারে খাদের কিনারায় পড়েছে মোহামেডানের ফুটবল দল। স্বাধীনতা কাপ থেকেও বিদায়ের আওয়াজ শুনছেন মোহামেডান ভক্তরা। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় খেলায় মোহামেডান ০-২ গোলে হেরেছে নোফেল স্পোর্টিং ক্লাবের কাছে। ‘বি’ গ্রুপের প্রথম খেলায় রহমতগঞ্জের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করায় এখন প্রতিযোগিতা থেকে বিদায়ের পথে ঐতিহ্যবাহী দলটি। শেষ খেলায় তাদের বিপক্ষ চট্টগ্রাম আবাহনী। এ খেলাটির আগে লড়বে রহমতগঞ্জ নোফেল। দুটি খেলাই একই দিনে। সেদিনই নিশ্চিত হয়ে যাবে, কারা যাবে পরের রাউন্ডে।
মোহামেডান গতকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে খেলার শেষদিকে নিজেদের শেষ চেষ্টায়। নোফেল ক্লাবের উপর আক্রমণের ঝড় চলছে। সময় নেই। চতুর্থ রেফারি আনিসুর রহমান সাগর বোর্ড তুলে দেখালেন অতিরিক্ত ৬ মিনিট খেলা হবে। মোহামেডান সমর্থকরা গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে। চিত্কার করে বললো,‘ যা যা, ওই এমিলি তুই দাঁড়িয়ে কেন। সিফাত আরো উপরে ওঠ।’
খেলোয়াড়দেরকে সাহস দেয়ার জন্য সর্মথকদেরও আকুতি চোখে পড়ে গেল। ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা মোহামেডান যদি একটা গোল শোধ করতে পারে তাহলে অন্তত হার এড়ানো যাবে। সমর্থকরা যেন পারলে নিজেরাই খেলে দেয়। মোহামেডান গোলকিপার ইশতিয়াক নিজেও নোফেল ক্লাবের গোল মুখে উঠে এসেছেন। কিন্তু হঠাত্ পাল্টা আক্রমণে মোহামেডান দ্বিতীয় গোল হজম করলে হার নিশ্চিত হয়ে যায়। গ্যালারির সব উত্তেজনা মুহূর্তে মিশে যায়। নোফেল ক্লাবের খেলোয়াড়রা তখন দ্বিতীয় গোলের আনন্দে মাতোয়ারা।
নোফেল এদিন ২৮ মিনিটে আশরাফুল ইসলামের গোলে এগিয়ে যায় ১-০। সেই গোল শোধ করতে গিয়ে মোহামেডান পরিকল্পনায় বদল আনল। ৬২ মিনিটে এমিলিকে নামালো। কিছুই হলো না। ভারী শরীর নিয়ে নড়ার শক্তি কম। মোহামেডান যেন ১১ জন নিয়েও ১০ জনের দল হয়ে গেল। একজন ভালো তরুণ স্ট্রাইকার নামালে মোহামেডান হয়তো গোলের দেখা পেতেও পারতো। তারপরও মোহামেডান দ্বিতীয়ার্ধের খেলায় গোলের জন্য মরিয়া হলেও কাজ হয়নি। শেষ দিকে একটা আক্রমণে বল নোফেলের ক্রসপিসে লেগে নিচে নেমে এলেও সামনে থাকা এমিলি ফায়দা লুটতে পারেননি।
এরপর গোলের জন্য সবাই উপরে উঠে যায়। গোলপোষ্ট ফাঁকা। পাল্টা আক্রমনে ফাঁকা পোষ্টে গোল করেন রোমেল ২-০। নিজের পরিকল্পনায় সফল হয়েছেন নোফেল ক্লাবের কোচ কামাল বাবু। তার ফুটবল মেধার কাছে লড়াইয়ে পারলেন না মোহামেডানের অঘোষিত কোচ আমিরুল ইসলাম বাবু।
এই ম্যানেজার পরে হারের জন্য অভিযোগের তীর ছুড়েছেন রেফারি জালাল উদ্দিনের দিকে। তার মতে পেনাল্টি দেয়নি রেফারি। তারপরও সমর্থকদের আশার বাণী শুনিয়েছেন তিনি। বলছেন, এখনই এই টুর্নামেন্ট হতে বিদায় হয়নি মোহামেডান। সুযোগ রয়েছে।
নবাগত দলের কাছে মোহামেডানের হার নতুন নয়। এর আগে তারা কক্সসিটি ক্লাব, উত্তর বারিধারা ক্লাবের কাছে হেরেছিল। শক্তিশালী নবাগত দল বসুন্ধরা কিংসের কাছেও হেরেছিল মোহামেডান।
