আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে ফের বিদায় বললেন বেন স্টোকস

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৬, ২১:৫৪

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিয়েছেন বেন স্টোকস। তার ১৫ বছরের লম্বা ক্যারিয়ারের ইতি ঘটানোর ঘোষণাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিয়েছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।

২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের ওই মুহূর্তটা ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে থাকার কথা সবসময়। সুপার ওভারের নাটকীয়তা শেষে ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ জেতানোর নায়ক ছিলেন বেন স্টোকসই। পরে তিনি তাদের জিতিয়েছেন টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপও। টেস্টেও আছে অনেক রঙিন স্মৃতি।

ট্রেন্ট ব্রিজে ইংল্যান্ড–নিউজিল্যান্ড তৃতীয় টেস্ট চলার সময়ই এল এই ঘোষণা। ম্যাচ শুরুর আগেও অবসরের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছিলেন স্টোকস। তবে রোববার সকালে তিনি সতীর্থ ও ইসিবিকে নিজের অবসরের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

ইসিবির চেয়ারম্যান রিচার্ড থম্পসন বলেছেন, ‘বেন স্টোকস আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে এমন একজন ক্রিকেটার হিসেবে বিদায় নিচ্ছেন, যিনি ইংল্যান্ডের সর্বকালের অন্যতম সেরা এবং নিজের প্রজন্মের অন্যতম পথপ্রদর্শক ব্যক্তিত্ব। চাপের মুখে তার পারফরম্যান্স, তার আপসহীন প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব এবং সবচেয়ে প্রয়োজনের মুহূর্তে অবিশ্বাস্য কিছু করে দেখানোর ক্ষমতা আমাকে এবং লক্ষ লক্ষ ভক্তকে এমন কিছু স্মৃতি দিয়েছে যা চিরকাল টিকে থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে বড় মুহূর্তগুলোতে দলকে জয়ের জন্য অনুপ্রাণিত করাই হোক-বিশেষ করে ২০১৯ এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে শিরোপা জেতানো এবং হেডিংলিতে তার সেই মহাকাব্যিক অ্যাশেজ ইনিংস-কিংবা সাহস ও দৃঢ়তার সাথে টেস্ট দলকে নেতৃত্ব দেওয়া, বেন সবসময়ই ইংলিশ ক্রিকেটের এক রক্ষাকর্তা  হিসেবে ছিলেন।’

থম্পসন বলেন, ‘মাঠের দুর্দান্ত সব অর্জনের বাইরেও, তার পারফরম্যান্স অনেক তরুণকে ইতিবাচকতা ও বিশ্বাসের সাথে ক্রিকেটকে আপন করে নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে। আমরা একাধারে একজন ব্যাটসম্যান, একজন বোলার, একজন অধিনায়ক এবং একজন সত্যিকারের জাদুকরকে হারাচ্ছি।’

ইসিবির পক্ষ থেকে, বেন স্টোকসকে ক্রিকেটকে উজাড় করে সবকিছু দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং তার ও তার পরিবারের ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য ও সুখ কামনা করেন থম্পসন।

ইসিবির চিফ এক্সিকিউটিভ রিচার্ড গোল্ড বলেন, ‘বেন স্টোকস ইংলিশ ক্রিকেটে যে অবদান রেখেছেন তা পরিমাপ করা অসম্ভব। বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে তার অসাধারণ দক্ষতার মাধ্যমেই শুধু নয়, বরং পুরো আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার জুড়ে তিনি যে প্রতিশ্রুতি, ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা এবং আবেগ দেখিয়েছেন তার মাধ্যমেও তিনি অনন্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরিসংখ্যানের চেয়েও তার প্রভাব ছিল অনেক বেশি। তার নেতৃত্ব এবং জেতার অদম্য ইচ্ছার মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে সতীর্থ, সমর্থক এবং তরুণ ক্রিকেটারদের অনুপ্রাণিত করেছেন। ইংল্যান্ডের প্রতি তার এই সেবার জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ এবং একটি অসাধারণ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য তাকে অভিনন্দন জানাই। ক্রিকেট খেলায় তার অবদান আগামী বহু বছর ধরে উদযাপিত হবে।’

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে জন্ম নেওয়া এবং কাম্ব্রিয়ায় বেড়ে ওঠা স্টোকস ক্যারিয়ারে বহুবার ইনজুরির ধাক্কা সামলে উঠে ইংল্যান্ডকে অসংখ্য ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ইত্তেফাক/এসএইচ