ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর বসছে না প্যাকেজ ভ্যাট, তামাকের করও শিথিল

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৬, ০৯:০৮

খুচরা ব্যবসায়ীদের তীব্র বিরোধিতা এবং এসএমই খাতে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কায় ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর নির্দিষ্ট হারে ভ্যাট বা বহুল আলোচিত ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ আরোপের প্রস্তাব থেকে সরে আসছে সরকার। একই সঙ্গে তামাক খাতে প্রস্তাবিত কয়েকটি কর বৃদ্ধির পদক্ষেপও শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর ফলে আমদানি পর্যায়ে নিকোটিন পাউচের ওপর বিদ্যমান ৩৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্কই বহাল থাকতে পারে। পাশাপাশি প্রচলিত সিগারেট উৎপাদনে ব্যবহৃত আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর প্রস্তাবিত কর বৃদ্ধিও প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

বর্তমানে বছরে ৫০ লাখ টাকা বা তার বেশি টার্নওভার থাকা খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধন নিতে হয় এবং এর নিচের প্রতিষ্ঠানগুলো ভ্যাটের আওতার বাইরে রয়েছে। তবে নতুন বাজেট প্রস্তাবে আগামী ১ জুলাই থেকে টার্নওভারের পরিমাণ নির্বিশেষে সব খুচরা ব্যবসাকে ভ্যাটের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছিল।

এই প্রস্তাবের পর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তারা আশঙ্কা করেন, এতে পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং ভ্যাট কর্মকর্তাদের হয়রানির ঝুঁকি বাড়বে।

সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অর্থ বিলটি আজ অর্থ আইন হিসেবে পাস হওয়ার আগেই অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংশ্লিষ্ট বিধান বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি অনেক মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাধারণ ভ্যাটব্যবস্থার পরিবর্তে প্যাকেজ ভ্যাটের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। এসব বিবেচনাতেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, অতীতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কর পরিশোধ সহজ করতে প্যাকেজ ভ্যাট চালু করা হলেও ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইন-২০১২ অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালুর পর তা বাতিল করা হয়।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি ক্ষুদ্র ও অতি ক্ষুদ্র ব্যবসাকে ভ্যাটের বাইরে রাখার দাবি জানিয়ে আসছিল। সংগঠনের সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, "ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অধিকাংশেরই ভোক্তাদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায়ের সক্ষমতা নেই। একে জোর করে কার্যকর করতে গেলে ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হবেন এবং এসএমই খাতে অস্থিরতা তৈরি হবে।

বর্তমানে প্রায় ৭ লাখ ৭৫ হাজার প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় রয়েছে। গত অর্থবছরে আদায়কৃত ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার ভ্যাটের প্রায় ৬০ শতাংশই এসেছে বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) মাত্র ১০৯টি প্রতিষ্ঠান থেকে।

সংগঠনটি এনবিআরের প্রতি ভ্যাট অটোমেশন দ্রুত শেষ করা, প্রকৃত করদাতার সংখ্যা বাড়ানো এবং বড় প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে ভূমির মালিকদের জন্য মূলধনি মুনাফা কর (গেইন ট্যাক্স) প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

ইত্তেফাক/আইএ