‘ওয়াকা ওয়াকা’র অবিশ্বাস্য সাফল্যের পর আবারও বিশ্বকাপের সুরে বিশ্ব মাতাতে ফিরলেন কলম্বিয়ান সুপারস্টার পপ তারকা শাকিরা। এবার তার কণ্ঠে সুর মিলিয়েছেন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’। উন্মোচনের পর থেকেই গানটি সোশ্যাল মিডিয়ার রিলস ও শর্টসে ট্রেন্ডিংয়ের শীর্ষে রয়েছে এবং কোটি ভক্তের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।
শাকিরা শুধু তার কণ্ঠের জাদু আর দুর্দান্ত নাচের মুদ্রার জন্যই স্টেজে আলো ছড়ান না; পাশাপাশি তার নিখুঁত ও উজ্জ্বল ত্বকও দর্শকের নজর কাড়ে। ফলে খুব স্বাভাবিকভাবে ভক্তরা তার সৌন্দর্যের রহস্য সম্পর্কে জানতে সব সময় আগ্রহী থাকেন।
মঞ্চে ওঠার আগে, এই ৪৯ বছর বয়সী কলম্বিয়ান গায়িকা একটি সহজ কিন্তু কার্যকরী রুটিনের মাধ্যমে তার ত্বক প্রস্তুত করেন, যা তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পারফর্ম করার পরেও উজ্জ্বল দেখাতে সহায়তা করে। আর ভালো দিকটি হলো, এগুলোর বেশির ভাগ কাজই নিজে করেন।
স্টেজে ওঠার আগে শাকিরা ত্বকের প্রস্তুতি যেভাবে নেন রেড লাইট থেরাপি এবং লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ এর মাধ্যমে।
শাকিরার একটি গ্ল্যাম টিম থাকলেও তিনি তার ত্বকের যত্নের শুরুর কাজগুলো একাই করতে পছন্দ করেন। প্রথম ধাপের মধ্যে রয়েছে প্রদাহ কমাতে একটি রেড লাইট থেরাপি ডিভাইস ব্যবহার করা। এটি প্রদাহ কমানোর জন্য একটি লেজার বলা চলে। বিষয়টি তিনি একটি টিকটক ভিডিওতে ব্যাখ্যা করেন এবং দেখান কীভাবে মুখে এই ওয়্যারলেস গ্যাজেট ব্যবহার করেন।
এরপর তিনি লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজের জন্য একটি ফেশিয়াল গুয়া শা করেন। এই কৌশল তার মুখের ফোলা ভাব কমাতে এবং অতিরিক্ত তরল বের করে দিতে সাহায্য করে। তিনি বরাবরই মাল্টিটাস্কিং করেন। ভোকাল ওয়ার্ম-আপ করার সময়ও এই গুয়া শা টুল ত্বকে ব্যবহার করেন। এতে দুটো কাজই চলে সমানতালে।
মেকআপ সেটিং ও হেয়ারস্টাইল
ত্বক প্রস্তুত হয়ে গেলে তিনি সরাসরি মেকআপ শুরু করেন। তার পছন্দের পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে—
মসৃণ ও স্বাভাবিক ফিনিশিংয়ের জন্য ফাউন্ডেশন।
মঞ্চের আলোর নিচে চোখ ফুটিয়ে তোলার জন্য আইশ্যাডো।
বোল্ড ও সাবলীল লুকের জন্য লিপস্টিক।
সবকিছু সেট করে রাখার জন্য সেটিং স্প্রে।
সব শেষে তিনি নিজের পারফিউম স্প্রে করে নেন। কারণ, দেবীর মতো দেখতে লাগলে চমৎকার সুগন্ধ ছড়াতে দোষ কি!
এদিকে, হেয়ারস্টাইলিস্ট তার সিগনেচার ঢেউখেলানো চুলের যত্ন নেন। এই প্রক্রিয়া তিনি পুরোনো একটি বিহাইন্ড-দ্য-সিনস ভিডিওতেও শেয়ার করেছিলেন।
ট্যুর পারফরম্যান্সের জন্য শাকিরা যেভাবে ফিট থাকেন
শরীর ফিট রাখতে শাকিরা শুধু নাচের মহড়ার ওপর নির্ভর করেন না, তার ফিটনেস রুটিনে শরীরের শক্তি এবং নমনীয়তা বাড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি ব্যায়াম অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে একটানা পারফর্ম করার জন্য অপরিহার্য। যেমন—
ডেড লিফট: পিঠ, কোর, গ্লুটস এবং পা শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেহভঙ্গিও উন্নত করে।
হিপ থ্রাস্টস: শরীরের নিচের অংশের শক্তি বাড়ানোর জন্য গ্লুটস, ঊরু এবং কোরকে লক্ষ্য করে করা হয় এই ব্যায়াম।
শাকিরা হাতের ব্যায়ামও করেন। এই সবকিছুর ওপরে তিনি যখনই সময় পান, ১০ মিনিটের জন্য নিজে নিজে ম্যাসাজ করে নেন। কারণ, প্রশিক্ষণের মতোই পুনরুদ্ধারও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
শোর আগে চূড়ান্ত প্রস্তুতি
মঞ্চে ওঠার আগে শাকিরার প্রস্তুতির শেষ ধাপগুলোর মধ্যে রয়েছে-
কণ্ঠকে সেরা অবস্থায় রাখার জন্য ১০ মিনিটের ভোকাল ওয়ার্ম-আপ।
সবকিছু ঠিকঠাক আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আয়নায় শেষবারের মতো একবার দেখে নেওয়া।
শাকিরা প্রমাণ করেছেন, ট্যুরের সময় দেখতে এবং অনুভব করতে চমৎকার লাগাটা শুধু গ্ল্যাম স্কোয়াড আর দামি ট্রিটমেন্টের ওপর নির্ভর করে না; এটি ধারাবাহিকতা, উপযোগী স্কিন কেয়ার এবং একটি শক্তিশালী ফিটনেস রুটিনের ওপর নির্ভরশীল। তার রুটিন থেকে যদি একটি বিষয় শেখার থাকে, তা হলো নিজের যত্ন এবং একই সঙ্গে একাধিক কাজ সামলানোই আসল পরিবর্তন।
সূত্র: ওলা ডট কম

