জনপ্রিয় বিটিএস তারকা জাংকুকের বাড়িতে দফায় দফায় অনুপ্রবেশ এবং বারবার সতর্ক করার পরও উত্যক্ত করার দায়ে ব্রাজিলের এক নারী ভক্তকে স্থগিত কারাদণ্ড দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, শুধু একদিনেই ওই ভক্ত জাংকুকের বাড়ির কলিংবেল ১৩৩ বার বাজিয়েছিলেন।
নাম প্রকাশ না করা ওই নারী গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ২৮ বছর বয়সি এই পপ তারকার পিছনে লাগেন (স্টকিং শুরু করেন)।
নিজের এই কর্মকাণ্ডকে গায়কের প্রতি ‘ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ’ দাবি করে তিনি জাংকুকের বাড়ির দরজার ফাঁক দিয়ে চিঠি এবং ছবি রেখে আসার চেষ্টাও করেছিলেন।
সিউলের একটি জেলা আদালত ওই নারীকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন, যা আগামী দুই বছরের জন্য স্থগিত থাকবে। তবে আইনি আপিলের মাধ্যমে রায় পরিবর্তন করতে না পারলে, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে তাকে নিজ দেশে ফেরত (ডিপোর্ট) পাঠানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, গত ৭ ডিসেম্বর ওই নারী প্রথম সিউলে জাংকুকের বাড়িতে যান। সেখানে তিনি বাড়ির চারপাশে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ান, প্রাচীর টপকে ভেতরে জিনিসপত্র ছুড়ে মারেন এবং দরজার ফাঁক দিয়ে চিঠি গলিয়ে দেন।
এর মাত্র কয়েকদিন পর তিনি আবারও সেখানে যান এবং এক টানা ১৩৩ বার কলিংবেল বাজান। আদালত এই আচরণকে ‘চরম মাত্রার পাগলামি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
১৩ ডিসেম্বর এক ফুড ডেলিভারি ম্যান-এর পিছু নিয়ে একটি পার্শ্ববর্তী গেট দিয়ে বাড়ির সীমানায় প্রবেশের সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আর কখনো এই বাড়ির আশেপাশে না আসার শর্তে ও সতর্কবার্তা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়—যা তিনি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেন।
পরবর্তী কয়েক সপ্তাহেও তার এই আনাগোনা চলতে থাকলে পুলিশ জাংকুকের বাড়ির ১০০ মিটারের মধ্যে ওই নারীর প্রবেশের ওপর জরুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
কিন্তু এত কিছুর পরও তিনি দমে যাননি। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাংকুকের বাড়িতে যাতায়াত অব্যাহত রাখায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে পুলিশ অবশেষে মামলাটি প্রসিকিউটরদের কাছে হস্তান্তর করে।
আদালতকে জানানো হয়, ওই নারী সব মিলিয়ে মোট ২২ বার এই পপ তারকার বাড়িতে হানা দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, কে-পপ তারকাদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গত বছরের জুন মাসে জাংকুক তার বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা শেষ করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায়, এক চীনা নারী (৩০) তার বাড়িতে অনুপ্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে সিউল থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন।

