ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারালেন আর্জেন্টিনার ফুটবলার

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৬, ১৭:০৭

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর টানা ৭৪ ঘণ্টার অনুসন্ধান শেষে আর্জেন্টাইন ফুটবলার লুকাস ট্রেইহোর স্ত্রী ও দুই ছোট সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। 

৩৮ বছর বয়সী ট্রেইহো মরিয়া হয়ে তার স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেয়া এবং তাদের দুই সন্তান অ্যারন ও আইনোয়ার খোঁজ করছিলেন। বুধবার দেশটিতে আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে প্লায়া গ্রান্দেতে তারা যে অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে অবস্থান করছিলেন, সেটি ধসে পড়ে।

Soccer Star's Wife and 2 Kids Found Dead After 72-Hour Search

ডিফেন্ডার ট্রেইহো তখন নিজের ক্লাবের হয়ে লিগ ম্যাচের প্রস্তুতির জন্য রাজধানী কারাকাসে ছিলেন। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর তিনি প্রকাশ্যে সবার কাছে সাহায্যের আবেদন জানান।

তিনি ইনস্টাগ্রামে লিখেছিলেন, ‘প্লায়া গ্রান্দেতে আমাদের ভবনটি ধসে পড়েছে। আমার পরিবারের কোনো খবর জানি না। দয়া করে তাদের জন্য প্রার্থনা করুন এবং যদি কেউ তাদের দেখে থাকেন, তাহলে এই বার্তাটি ছড়িয়ে দিন। আমি বিশ্বাস করতে চাই, তারা সেখানে ছিলেন না।’

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার গভীর রাতে অনুসন্ধান অভিযান শেষ হয়, যখন উদ্ধারকর্মীরা তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেন।

ট্রেইহোর ক্লাব দেপোর্তিভো লা গুয়ারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিবৃতিতে ক্লাবটি বলেছে, ‘লুকাস ট্রেইহোর স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেয়া এবং তাদের সন্তান অ্যারন ও আইনোয়া ত্রেখোর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় আমরা শোকাহত। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং লুকাস ও তার স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’

ট্রেইহোর আরেকটি ক্লাব মারিতিমো দে লা গুয়ারাও শোক প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, টানা ৭৪ ঘণ্টার অনুসন্ধান শেষে তার পরিবারের সদস্যদের মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

Soccer Star's Wife and 2 Kids Found Dead After 72-Hour Search amid  Earthquakes in Venezuela - AOL

উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া ট্রেইহোর সতীর্থ ফুটবলার এদসন তোর্তোলেরোও হৃদয়বিদারক এ খবর নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করতে সহায়তা করা স্বেচ্ছাসেবক ও জরুরি সেবাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

আর্জেন্টিনার গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অনুসন্ধানকাজে সহায়তা করতে ট্রেইহোর বাবা ও ভাই ভেনেজুয়েলায় গিয়েছিলেন।

মরদেহ উদ্ধারের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে পর্যন্তও ট্রেইহো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের স্ত্রী ও দুই সন্তানের সঙ্গে তোলা একটি ছবি শেয়ার করেছিলেন। তখনও তার আশা ছিল, তারা হয়তো জীবিত আছেন।

এদিকে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্পের পরিণতি সামলাতে এখনও হিমশিম খাচ্ছে ভেনেজুয়েলা। এই ভূমিকম্পে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে।

জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে প্রায় ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে উদ্ধারকারী দল জীবিত উদ্ধার এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট

ইত্তেফাক/এসএইচ