বিদ্যুতের ভেলকিতে অতিষ্ঠ গ্রাহক, প্রতিবাদে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বিএনপি নেতাদের

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৬, ১৯:০৩

চুয়াডাঙ্গা জেলার শিল্প ও সীমান্ত শহর দর্শনায় ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল, বিদ্যুৎ বণ্টনে বৈষম্য, ঘনঘন লোডশেডিং এবং গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের হয়রানি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। এর প্রতিবাদে দর্শনা পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসে অবস্থান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।

৭ দিনের মধ্যে এসব বিষয় সুরাহা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে দর্শনা পৌর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও শেষে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দর্শনা পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরে নানা অনিয়মের অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। গ্রাহকদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- মাসজুড়ে ব্যাপক লোডশেডিং হলেও বিদ্যুৎ বিল এসেছে দ্বিগুণ। মিটারের প্রকৃত রিডিংয়ের চেয়ে বেশি ইউনিট দেখিয়ে অতিরিক্ত বিল আদায় করা হচ্ছে। ফোনে অভিযোগ দিতে গেলে ফোন বিজি করে রাখা হয়। বহু চেষ্টা করে যদি লাইন পাওয়া যায় তখন আবার উল্টাপাল্টা কথা শুনিয়ে ফোন কেটে দেন বিদ্যুৎ অফিস সংশ্লিষ্টরা।

মূলত এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে সোমবার বেলা ২টার দিকে দর্শনা পৌর বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দর্শনা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের সামনে গিয়ে অবস্থান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। 

এ সময় জেলা শ্রমিক দলের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম সাবু, দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক মাহাবুবল আলম খোকন, সমন্বয়ক মো. শরীফ উদ্দিন, মো. নাহারুল ইসলাম মাস্টার, নাসির উদ্দিন খেদু, দর্শনা যুবদলের আহ্বায়ক মো. জালাল উদ্দিন লিটনসহ সংগঠনটির স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন,

দর্শনায় দেশের বৃহত্তম চিনিকল, রেলবন্দর, আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ও বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে সীমান্ত এলাকা। সামান্য ভুলে বড় রকমের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে লোডশেডিংসহ যদি অন্যান্য অনিয়মের সুষ্ঠু সমাধান না হয় তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।

তারা আরও বলেন, দর্শনা-জীবননগর দিয়ে দর্শনা সাবজোন এলাকায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৯ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ১১ মেগাওয়াট। এর মধ্যে দর্শনা জোনে ৪ মেগাওয়াট এবং জীবননগর জোনে ৭ মেগাওয়াট। ফলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।

জেলা শ্রমিক দলের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম সাবু ইত্তেফাক ডিজিটালকে বলেন, বিদ্যুত বিভাগের সমস্যা-অনিয়মের প্রতিবাদে আমরা এখানে এসেছি। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যা কথা হয়েছে তা আপনাদের সামনেই হয়েছে।

বিষয়ে দর্শনা পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের এ জি এম মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, সমবণ্টনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। বিষয়টি উচ্চপর্যায়ে জানানো হয়েছে। আশা করছি আগামী দিনে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিস্থিতির উন্নতি হবে। গ্রাহকদের কিছু হয়রানির বিষয় রয়েছে। সেগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে। 

ইত্তেফাক/এপি