পাবনার চাটমোহরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৮ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে এই রিপোর্টে লেখা পর্যন্ত আহতদের মধ্যে পাঁচজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার হরিপুর বাজারে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে হরিপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ও ৪ নাম্বার ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য, সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাবলুর রহমান (৪৮), ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান (৪০), ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ (৫৭), ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত হোসেন (২৫) রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ও ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি বাবলুর রহমান গ্রুপের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছে। বৃহস্পতিবার রাতে হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে একটি মিটিং করছিলেন ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি বাবলুর রহমান গ্রুপের নেতাকর্মীরা।
এ সময় ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে তার লোকজন আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ। এ সময় সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়। তাদের মধ্যে বাবলু গ্রুপের বাবলু, মিজান, মজিদসহ পাঁচজন এবং সিরাজ গ্রুপের রাহাতসহ ৩ জন আহত হয়।
আহতদের মধ্যে চাটমোহর ও বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবলুর রহমান বলেন, আমরা দলীয় ও দেশ প্রধান তারেক রহমানের নির্দেশে নিজেদের এলাকাকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে চাই। এটা সহ্য করতে পারছেন না ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম। তার সঙ্গে আমাদের পূর্ববিরোধ রয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজে আমাদের বাধার সৃষ্টি করে আসছেন। তারা হরিপুরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তার প্রতিবাদ করায় তাদের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে আমাদের শান্তিপূর্ণ সভায় সিরাজের নেতৃত্বে আমাদের উপর হামলা করা হয়।
হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমার নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন। কারণ ঘটনার সময় হরিপুর বাজারেই ছিলাম না। পরে শুনেছি এলাকার কিছু দলীয় লোকের সঙ্গে তাদের আগের ঝামেলার রেশ ধরে মারামারি হয়েছে। এখানে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নাই। এখন সবাই বিএনপি করে। তাদের মধ্যে আমার সমর্থক লোকজন থাকতে পারে।
এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ওসি মো. অলিউর রহমান জানান, বিএনপির দুই গ্রুপের মারামারির বিষয়টি আমরা জানার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি ও আহতদের সাথে কথা বলেছি। তাদের অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

