ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের (অ্যালামনাই) সহায়তায় ২ হাজার কোটি টাকার পৃথক দুটি তহবিল গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।
বুধবার (১ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে আয়োজিত 'গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়' শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
উপাচার্য অ্যালামনাইদের উদ্দেশে বলেন, ‘শুধু সরকারের অর্থায়নে কখনো একটি বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারে না। এই শতবর্ষী বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে আপনারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমাদের অ্যালামনাইদের সহায়তায় গবেষণা খাতে ১ হাজার কোটি টাকা এবং শিক্ষার্থী কল্যাণে আরও ১ হাজার কোটি টাকার দুটি পৃথক তহবিল গঠন করা হবে।’
২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসেভিয়ার প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ জন শিক্ষক ও গবেষক স্থান পেয়েছেন। বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা বলে জানান তিনি।
অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা, নীতিগত সহায়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা গেলে ভবিষ্যতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাতারে জায়গা করে নিতে সক্ষম হবে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২৫তম বর্ষকে সামনে রেখে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি একাডেমিক প্ল্যান ২০২৬–২০৪৬’ নামে দুই দশক মেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মূল দর্শন হলো- ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্ভাবন ও নৈতিক নেতৃত্বের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতিষ্ঠান’ গড়ে তোলা।
উপাচার্যের ভাষ্য, এটি কেবল একটি নীতিপত্র নয়; আগামী দুই দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপান্তরের কৌশলগত ভিত্তি। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে চাই, যেখানে গবেষণা হবে কেন্দ্রীয় শক্তি, শিক্ষা হবে ভবিষ্যতমুখী এবং সুশাসন হবে দক্ষতা ও উদ্ভাবনভিত্তিক।’

