ডাবলিনপ্রবাসী ভারতীয় লেখিকা নিবেদিতা শুক্লার একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিদেশে ভারতীয়রা কীভাবে বৈষম্যের শিকার হন, সেটা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজেরই একটি জাতিগত বিদ্বেষের ঘটনা শেয়ার করেছেন তিনি। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে এক ক্ষুধার্ত পাকিস্তানি যাত্রীকে শুধু তার দেশের পরিচয়ের কারণে খাবার না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা নিজেই অকপটে স্বীকার করেছেন এই লেখিকা।
সোমবার (২৯ জুন) দ্য হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
জানা যায়, সেই পোস্টে পাকিস্তানি নাগরিকের প্রতি নিজের চরম বৈষম্যমূলক ও অমানবিক আচরণের কথা প্রকাশ করতেই ইন্টারনেটে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ‘দ্য মোমেন্টোস অব রুনঝ’ বইয়ের এই লেখিকা।
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে নিজের ১০ ঘণ্টার একটি ট্রানজিটের অভিজ্ঞতার কথা এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে শেয়ার করেন নিবেদিতা। তিনি জানান, বিমানবন্দরে তিনি এমন এক ব্যক্তিকে দেখতে পান, যাকে দেখে তার আর্থিকভাবে অসচ্ছল মনে হয়েছিল। সহানুভূতিশীল হয়ে তিনি নিজের সঙ্গে থাকা খাবার নিয়ে ওই ব্যক্তির দিকে এগিয়ে যান।
কথোপকথনের শুরুতে নিবেদিতা হিন্দিতে জিজ্ঞেস করেন, তিনি ডাবলিন থেকে এসেছেন কিনা। ব্যক্তিটি ইতিবাচক উত্তর দেন। এরপর যখন নিবেদিতা জানতে চান তার গন্তব্য কোথায়, তখন ব্যক্তিটি উত্তর দেন— ‘করাচি, পাকিস্তান!’
এই উত্তর শোনার পরই তিনি খাবার না দিয়েই ঘুরে দাঁড়ান এবং নিজের আসনে ফিরে আসেন বলে দাবি করেন লেখিকা। শুধু তাই নয়, নিজের এক্স পোস্টটি তিনি শেষ করেন ‘যা মর’ (যাও, গিয়ে মরো) নামক একটি চরম আপত্তিকর ও নিষ্ঠুর হিন্দি বাক্যাংশ দিয়ে।
https://publish.x.com/?url=https://twitter.com/ShuklaNive/status/2070802762669932652#
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ
এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে নিবেদিতার এই পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয় এবং প্রায় ১৮ লাখ মানুষ এটি দেখেন। নিজের এমন বর্ণবাদী ও বিদ্বেষপূর্ণ আচরণকে কৃতিত্ব হিসেবে প্রচার করায় নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়েছেন এই লেখিকা।
রোহিণী সিং নামের এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ভারতীয়রা যদি এমন জঘন্য আচরণ করে এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃতিত্ব হিসেবে শেয়ার করে, তবে মানুষের মনে ভারতীয়দের প্রতি কেন ঘৃণা বাড়ছে তা নিয়ে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
ইরেনা আকবর নামের অপর একজন লিখেছেন, তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন কেন ভারতীয়দের ঘৃণা করা হয়। নিজের আচরণ দিয়েই তিনি নিজেই সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিলেন।
আরেকজন মন্তব্যকারী সরাসরি বলেন, ‘আপনি যে মনোভাব এবং মানসিকতা আপনার টুইটে দেখিয়েছেন, ঠিক এই মানসিকতার কারণেই আপনাকেও হয়তো অন্য কোথাও অবহেলা করা হয়।’
কেউ কেউ বিষয়টিকে মনোস্তাত্ত্বিক ‘প্রোজেকশন’ হিসেবে উল্লেখ করে লেখেন, ‘আপনার প্রতিটি অভিযোগই আসলে আপনার নিজের চরিত্রের স্বীকারোক্তি।’
অন্যদিকে নিজের দেশের মানুষই এই বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে এক নেটিজেন লেখেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে আপনার নিজের দেশের এবং ধর্মের মানুষই আপনার এই বর্ণবাদী ও ঘৃণ্য কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে।’

