চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই নরসিংদীর দুটি কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অনুষ্ঠিত বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষায় মনোহরদী উপজেলার একটি কেন্দ্রে এমসিকিউ এবং সদর উপজেলার অন্য একটি কেন্দ্রে লিখিত অংশে এই বিভ্রান্তি ঘটে। এই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে ইতিমধ্যেই ৬ জন শিক্ষককে পরীক্ষার ডিউটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং কেন্দ্র সচিবদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মনোহরদী সরকারি কলেজ কেন্দ্রের দুটি কক্ষে প্রায় শতাধিক পরীক্ষার্থীকে নতুন সিলেবাসের পরিবর্তে ভুলবশত বাংলা প্রথমপত্রের ‘খ’ সেটের (কোড ১২১) ভিন্ন একটি প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। পরীক্ষার্থীরা জানান, হলের ভেতর বিষয়টি তাদের নজরে আসেনি; কিন্তু পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে উত্তর মেলাতে গিয়ে তারা বুঝতে পারেন যে সম্পূর্ণ ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছেন। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ফলাফল নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। মনোহরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল মান্নান শিক্ষকদের অবহেলাকে দায়ী করে জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম. এ. মুহাইমিন আল জিহান জানান, কেন্দ্রে প্রশ্ন পৌঁছানোর পূর্ববর্তী ধাপগুলোর কড়াকড়ি বিবেচনা করলে এক পরীক্ষার প্রশ্ন অন্য পরীক্ষায় চলে আসা অসম্ভব। মূলত দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের চরম ভুলের কারণেই এমনটা ঘটেছে। এই ঘটনায় খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও হল সুপার আরেফা সুলতানা, প্রভাষক সামছুল আলম, প্রভাষক মাহমুদুর রহমান এবং প্রভাষক মো. আকরাম হোসেনকে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্র সচিব ও খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নাজিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ফলাফলে যেন কোনো ক্ষতি না হয়, তা শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে।
এদিকে নরসিংদী সদর উপজেলার নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ২০১ নম্বর কক্ষেও কিছু শিক্ষার্থীকে লিখিত পরীক্ষায় ২০২৫ সালের পুরনো প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। পরীক্ষা শুরুর ১০-১৫ মিনিট পর শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে দায়িত্বরত শিক্ষকদের জানালে প্রশ্নপত্র বদলে নতুন প্রশ্ন দেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা শেষ করা হয়। কেন্দ্র সচিব ও নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নাছিমা আক্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দুঃখ প্রকাশ করেন। এই ঘটনায় দায়িত্বে থাকা সহকারী অধ্যাপক অলক কুমার পাল ও সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত কুমার সাহাকে পরীক্ষা কমিটি থেকে প্রত্যাহার করে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পুরো ঘটনাটি তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মু. রাসেদুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

