আমি জিনিয়াস নই, আবার স্টুপিডও নই: বিশ্বকাপের মাঝে মুখ খুললেন কার্লো আনচেলত্তি

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৪:৪১

ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব নেওয়ার এক বছর পর নিজের প্রথম বিশ্বকাপ অভিযানে বেশ আত্মবিশ্বাসী ইতালীয় কিংবদন্তি কার্লো আনচেলত্তি। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে জাপানের বিপক্ষে জয় এবং আগামী রোববার নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ‘ফোলহা ডি এস. পাওলো’কে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন ৬৭ বছর বয়সী এই কোচ।

জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে কাসেমিরোর পরিবর্তে মার্টিনেল্লিকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আনচেলত্তি বলেন, ‘আমরা যদি জাপানকে হারাতে না পারতাম, তবে লোকে কী বলত? কাসেমিরোকে না উঠিয়ে যদি মার্টিনেল্লিকে না নামাতাম এবং ফল উল্টো হতো, তবে দোষ কার হতো? অবশ্যই আমার। আমি বিষয়টি ভালো করেই বুঝি এবং এ কারণেই দলে ভারসাম্য বজায় রাখতে চাই। এটা শতভাগ নিশ্চিত যে আমি কোনো জিনিয়াস নই; আবার এটাও শতভাগ নিশ্চিত যে আমি স্টুপিড (বোকা) নই।’

এক বছর ধরে ব্রাজিল দলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে দেশটির মানুষ সম্পর্কে আনচেলত্তির মূল্যায়ন বেশ ইতিবাচক। তিনি বলেন, ‘আমি প্রথমবার কার্নিভালে গিয়েছিলাম এবং সেখানেই বুঝতে পেরেছি ব্রাজিলিয়ানরা ঠিক কেমন। তারা অত্যন্ত আনন্দময়, ঐক্যবদ্ধ এবং সুশৃঙ্খল। সবচেয়ে বড় কথা তারা ভীষণ বিনয়ী। আমি আজ পর্যন্ত কোনো অহংকারী ব্রাজিলিয়ানের দেখা পাইনি। আমার কোচিং স্টাফ, ডাক্তার, ফিজিওথেরাপিস্ট—সবার মধ্যেই এই বিনয় কাজ করে।’

আগামী রোববার শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নরওয়ের মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা। প্রতিপক্ষ কোচ স্টেল সোলবাকেন ইতিমধ্যেই আনচেলত্তিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। ম্যাচটি নিয়ে আনচেলত্তি বলেন, ‘বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন। এখানে কৌশল ও কৌশলের পাশাপাশি মানসিক শক্তি বড় ভূমিকা রাখে। নরওয়ে ভালো দল এবং আর্লিং হালান্ড বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। তবে আমাদের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে।’

নেইমার প্রসঙ্গ
জাপানের বিপক্ষে নেইমারকে কেন অতিরিক্ত সময়ের জন্য বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল, সেই প্রশ্নে আনচেলত্তি জানান, ‘সবচেয়ে বড় কথা হলো সে খেলার জন্য প্রস্তুত। যখন বুঝব দলের তাকে প্রয়োজন, তখনই সে মাঠে নামবে।’ নেইমার এখন পুরো ৯০ মিনিট খেলার মতো ফিট কি না, এমন প্রশ্নে আনচেলত্তি নিশ্চিত করে বলেন, ‘হ্যাঁ, সে ৯০ মিনিট খেলতে পারবে।’

রিজার্ভ বেঞ্চে বসে থাকা নিয়ে নেইমারের মনোভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সে এতে খুশি নয়, তবে তার আচরণ খুবই পেশাদার। সে খুব কঠোর পরিশ্রম করছে এবং সতীর্থদের কাছে সে অত্যন্ত প্রিয় ও শ্রদ্ধার পাত্র। নেইমার যেমন গুণী খেলোয়াড়, তেমনি বিনয়ী। কোনো খেলোয়াড়ই বেঞ্চে বসে সন্তুষ্ট হতে পারে না, আর নেইমারও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে সে কখনোই সরাসরি খেলার জন্য জেদ ধরে না, যদিও তার খেলার ইচ্ছাটা স্পষ্ট।’

ভিনিসিয়ুস প্রসঙ্গ
নেইমারের অনুপস্থিতিতে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রই দলের প্রধান তারকা কি না, এমন প্রশ্নে আনচেলত্তি কিছুটা ভিন্ন মত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ‘ভক্তদের একজন তারকা খেলোয়াড় দরকার হয়, কিন্তু এই জাতীয় দলে আমাদের কোনো একক তারকার প্রয়োজন নেই। আমাদের দরকার উচ্চমানের খেলোয়াড় যারা দলগতভাবে সাহায্য করতে পারে।’ ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে চমৎকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। তার অসাধারণ প্রতিভার পাশাপাশি এই বিনয়ই তার সাফল্যের চাবিকাঠি।’

ইউরোপে ভিনিসিয়ুসের ওপর বর্ণবাদী হামলার ঘটনায় আনচেলত্তি বলেন, ‘সেই কঠিন সময়ে তার পাশে থাকাটাই ছিল সবচেয়ে বড় সমর্থন। রিয়াল মাদ্রিদ তাকে এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে যেভাবে সাহায্য করেছে, তা খুবই ইতিবাচক ছিল।’

চোট সমস্যা
রাফিনিয়া ও লুকাস পাকেতার চোট নিয়ে আনচেলত্তি কিছুটা চিন্তিত থাকলেও আশাবাদী। তিনি জানান, রাফিনিয়া দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন, তবে পাকেতার ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। বর্তমান ফুটবলের উচ্চ তীব্রতার (High Intensity) কারণে চোট পাওয়াটা খেলারই অংশ বলে মনে করেন তিনি।

গত ২ জুলাই নিউ জার্সির মরিসটাউনে কলম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং ফ্যাসিলিটিতে অনুশীলনের সময় আনচেলত্তিকে বেশ ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেছে। এখন দেখার বিষয়, রোববার হালান্ডের নরওয়েকে রুখতে তার রণকৌশল কতটা কার্যকর হয়।

ইত্তেফাক/এনএন