ঈদে বিনোদনকেন্দ্রে খুশির ঝিলিক

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৯, ২১:০৭

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ঈদের ছুটিতে রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ছিল মানুষের ঢল। শ্রাবণের অঝোর ধারার বৃষ্টি ঈদ আনন্দে কিছুটা বাগড়া দিলেও সবাইকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। প্রায় প্রত্যেকটি বিনোদনকেন্দ্রে ঈদের রং বাহারি পোশাক পরা নানান বয়সি মানুষের মুখে ছিল খুশির ঝিলিক। হাতিরঝিলে বড়ো-ছোটো সব বয়সি মানুষের আড্ডা আর মিলনমেলায় বুঝিয়ে দেয়, বৃষ্টি কোনোভাবেই ম্লান করতে পারেনি ঈদের আনন্দ। বিশেষ করে যেসব পরিবারে ছোটো শিশু রয়েছে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটছেন মিরপুর চিড়িয়াখানায়।

ঈদ উপলক্ষে হাতিরঝিল সেজেছিল নতুন সাজে। নতুন সাজে প্রস্তুত করা হয়েছিল চক্রাকার বাস ও ওয়াটার বোটগুলো। ঈদের দিন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্যামপুরে অবস্থিত বুড়িগঙ্গা ইকোপার্কে ভিড় বাড়তে দেখা গেছে। এ ছাড়া সায়েদাবাদের ওয়ান্ডারল্যান্ড, শ্যামলী শিশুমেলা এবং আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডম, নন্দন পার্ক ও সোনারগাঁওয়ের লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরে ছিল প্রাণের মেলা। মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানার প্রধান ফটকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে দেখা যায় নারী-পুরুষদের। ঈদের দ্বিতীয় দিনে সকাল ৮টা থেকে চিড়িয়াখানার প্রবেশ পথ খোলা হলেও তার আগে থেকেই অসংখ্য নারী, পুরুষ ও শিশু চিড়িয়াখানা দেখতে আসে। দর্শনার্থীদের ভিড়ে মিরপুর চিড়িয়াখানা রোডে সৃষ্টি হয় যানজট।

টিকিট কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে দেখা যায় মিরপুর পল্লবী থেকে আসা মনিরা আক্তার ও তার স্বামী রকিকুল ইসলামকে। তারা তিন শিশুকে নিয়ে এসেছেন চিড়িয়াখানায়। মনিরা আক্তার বলেন, আমার একটি সন্তান, আমার ছোটো বোনের একটা ও আমার ননদের একটা—এই তিন বাচ্চার বায়না মেটাতে আমাদের আসতে হয়েছে চিড়িয়াখানায়। তবে এতো ভিড় হবে জানা ছিল না। তবে ভালোই লাগছে।

শিশুরা চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করেই ছুটেছে জিরাফ, সিংহ, সাদা বাঘ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিতা বাঘ, হরিণ আর বানরের খাঁচার সামনে। শিশু ও তাদের অভিভাবকদের ভিড়ে মুখর চিড়িয়াখানা প্রাঙ্গণ। গতকাল বুধবার বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল ৮টা থেকেই চিড়িয়াখানা ও হাতিরঝিলসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নানা বয়সি দর্শনার্থীর ঢল নামে। দুপুর গড়াতে এর সংখ্যা ক্রমে বাড়তে থাকে।

জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর মো. নজরুল ইসলাম জানান, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় চিড়িয়াখানায় পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিশুদের নিয়ে যাতে অভিভাবকরা নির্বিঘ্নে ঘোরাফেরা করতে পারে সে জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ, র্যাব, আনসার, পুলিশ ও চিড়িয়াখানার নিজস্ব নিরাপত্তা সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন। এ ছাড়া দর্শনার্থীদের সুবিধায় কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে ১৫টি মনিটরিং সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মোহাম্মদপুর থেকে ঘুরতে আসা শিশু অ্যারন তার মা-বাবা ও দাদির সঙ্গে বেড়াতে এসেছেন। ১০ বছর বয়সি অ্যারন বলে, আমার খুব ভালো লাগে জীবজন্তু দেখতে। এসব বইয়ে দেখি, সেগুলোকে যখন সামনে দেখতে পাই তখন খুব ভালো লাগে। অ্যারনের বাবা আনোয়ার হোসেন বলেন, পাঠ্যপুস্তকের প্রত্যেকটি প্রাণীই আমরা চাইলে শিশুদের বাস্তবে দেখিয়ে চেনাতে পারি। কিন্তু আমরা সময়ের কারণে শিশুদের আনতে পারি না। এটা আমাদের ব্যর্থতা। তবে ঈদের সময় ভিড় বেশি থাকলেও ভালোই লাগছে। সব বয়সি শিশু এখানে এসেছে। অন্য সময়ের চেয়ে পরিবেশটা অন্যরকম।