বাড্ডার ৪ খুনের মামলার তদন্তে অগ্রগতি নেই

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৯, ২১:০৮

নিরাপত্তা আতঙ্কে বাদী

জামিউল আহসান সিপু

আফতাবনগর পশুর হাটের চাঁদাবাজির ১ কোটি টাকা ভাগবাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট বাড্ডায় ঘটে যাওয়া চার খুনের মামলার তদন্তে কোনো অগ্রগতি হয়নি। এই মামলায় সন্দেহভাজন আসামিদের একজন রমজান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। মামলার বাদী আতঙ্কে রয়েছেন। ইতিমধ্যে আসামিদের হুমকির কারণে বাদী বাড্ডা থানায় নিরাপত্তা চেয়ে জিডিও করেছেন। আমেরিকায় আত্মগোপন করা বাড্ডার শীর্ষ সন্ত্রাসী মেহেদীর নির্দেশে চার খুনের ঘটনা ঘটে বলে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মনে করছে।

২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট রাতে বাড্ডার আদর্শনগর পানিরপাম্প এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান গামা, বাড্ডার ছয় নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামসুদ্দিন মোল্লা, ব্যবসায়ী ফিরোজ আহমেদ মানিক ও যুবলীগ নেতা আবদুস সালাম। নিহত গামার বাবা মতিউর রহমান অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে আসামি করে বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে সাইদুল নামে স্থানীয় এক ছিঁচকে সন্ত্রাসী পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ আদালতে চার্জশিট দেয়। বাদী এই চার্জশিটের ওপর নারাজি দিলে আদালত মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেয়।

মামলার বাদী অভিযোগ করেন, আফতাবনগর গরুর হাটের ইজারাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ ভাগ্নে ফারুক ও বিদেশে আত্মগোপন করে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী মেহেদীর নির্দেশে তার ছেলেকে ভাড়াটিয়া কিলার দিয়ে খুন করা হয়। খুনের মিশনে অংশ নিয়েছিল আরিফ, পবন, পুলক, রমজান, মানিক, মান্নানসহ ১০/১২ সন্ত্রাসী। ডিবি যে চার্জশিট দিয়েছে, তাতে গরুর হাটের ইজারার বিষয়টি উল্লেখ করেনি। অথচ এই গরুর হাটের ইজারাকে কেন্দ্র করে শীর্ষ সন্ত্রাসী মেহেদী ও ভাগ্নে ফারুক ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে বেশ কয়েকবার তারা তার ছেলেকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাড্ডা এলাকায় কয়েকটি গ্রুপের হাতে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে। এই গ্রুপগুলোর হাতে গত ৭ বছরে অন্তত ১৫টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার একটিরও কূল কিনারা হয়নি।