বিএলএর আত্মঘাতী হামলা, নিহত অন্তত ৩০ পাকিস্তানি নিরাপত্তাকর্মী

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৮

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে পাকিস্তান কোস্ট গার্ডের একটি ক্যাম্পে আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। সংগঠনটির দাবি, এ হামলায় অন্তত ৩০ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তান সরকার এখনো এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি। স্বাধীনভাবেও হতাহতের সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বেলুচিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য বেলুচিস্তান পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোয়াদর জেলার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় শহর জিওয়ানির পানওয়ান এলাকায় অবস্থিত কোস্ট গার্ডের একটি ক্যাম্পে হামলাটি চালানো হয়।

বিএলএর মুখপাত্র জিয়ান্দ বেলুচের নামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংগঠনটির বিশেষ ইউনিট ‘মাজিদ ব্রিগেড’ এই অভিযান পরিচালনা করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল একটি ‘ফিদায়ি’ বা আত্মঘাতী কমান্ডো অভিযান।

বিএলএর দাবি, হামলার আগে তাদের সদস্যরা ক্যাম্পের ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর বিস্ফোরণ ও সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এতে ৩০ জনের বেশি নিরাপত্তা সদস্য নিহত এবং আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন বলে সংগঠনটি দাবি করেছে।

তবে পাকিস্তানের সামরিক বা বেসামরিক কোনো কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত হতাহতের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি। হামলায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও নিশ্চিত করা যায়নি।

বিএলএ জানিয়েছে, বেলুচিস্তানে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এ হামলা চালানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটি প্রদেশটির সামরিক, আধাসামরিক ও সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আসছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বেলুচিস্তানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তানের আয়তনে সবচেয়ে বড় হলেও জনসংখ্যায় সবচেয়ে ছোট এই প্রদেশে বহু বছর ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর অভিযোগ, প্রদেশটির প্রাকৃতিক সম্পদের ন্যায্য সুবিধা স্থানীয় জনগণ পাচ্ছে না। তারা অধিক স্বায়ত্তশাসন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর স্থানীয়দের নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়ে আসছে।

অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার বিএলএকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে এবং তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করছে। পাকিস্তান ছাড়াও বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশ সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেলুচিস্তানে সংঘটিত বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী হামলার দায়ও বিএলএর ওপর বর্তেছে। এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর স্থাপনায় হামলা এবং আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনাও রয়েছে। তবে জিওয়ানির সর্বশেষ হামলা নিয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে সংগঠনটির দাবি করা হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র: ইন্ডিয়া ট্যুডে

 
ইত্তেফাক/এসজেএস