বগুড়ার শিবগঞ্জের মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওনের প্রতারণার শিকার হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীরা অবশেষে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষার দিতে পেরেছেন।
শনিবার (৪ জুলাই) বাংলা ২য় পত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে তারা। এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন গত বৃহস্পতিবার প্রবেশপত্র না থাকায় পরীক্ষা দিতে পারেননি এসব শিক্ষার্থী।
বোর্ড ও কলেজ কর্তৃপক্ষের বিশেষ ব্যবস্থায় অবশেষে প্রবেশপত্র হাতে পেয়ে শিবগঞ্জ সরকারি মোজাফফর হোসেন মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীরা তাদের এইচএসসি পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক সূচনা করল। এতে আনন্দ ও স্বস্তি ফিরেছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারে।
তবে ৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজনের ইংরেজি আবশ্যিক বিষয় থাকায় আজ তারা কেন্দ্রে যায়নি। পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়ে গণমাধ্যম, শিক্ষক ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ে ফরম পূরণ করতে না পারা মানবিক বিভাগের ওই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে ফরম পূরণের আশ্বাস দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেন কলেজের খন্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওন। এমন অভিযোগ তোলেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। অন্য শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র দেওয়া হলেও এই শিক্ষার্থীরা তা পায়নি। এক পর্যায়ে অভিযুক্ত শাওন মুঠোফোন বন্ধ করে গা ঢাকা দেয়। পরীক্ষা শুরুর দিন সকালে প্রবেশপত্র না পেয়ে কলেজের সামনে অবস্থান নেন ভুক্তভোগীরা। এর ফলে প্রথম দিনের বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা দেওয়া থেকে বঞ্চিত হয় তারা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মইনুর ইসলাম বলে,
‘একটা বছর জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু যখন স্যার ফোন দিয়ে বললেন অ্যাডমিট কার্ড তৈরি হয়েছে, তখন যে কী আনন্দ লেগেছে বোঝাতে পারব না।’
আরেক শিক্ষার্থী মো. সম্রাট সরকার বলেন, ‘আমরা সত্যি অনেক খুশি যে নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করার দিকে এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারছি। পরীক্ষা দিতে না পেরে যখন ভেঙে পড়েছিলাম। শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ, তারা যেন আমাদের মতো ভুল না করে। সব কাগজপত্র যেন সরাসরি কলেজের মাধ্যমে জমা দেয়, কোনো দালালের খপ্পরে না পড়ে।’
মহাস্থান মাহী সওয়ার ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর বিশেষ বিবেচনায় এভাবে পুনরায় পরীক্ষায় বসার সুযোগ করে দেওয়া একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। বৃহস্পতিবারেই আমরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুক্রবার বোর্ডে যাওয়ার নির্দেশনা পাই৷ সেদিনই ছয় শিক্ষার্থীর কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংগ্রহ করে বোর্ডে যাই। কাজ সম্পন্ন করে আমরা ফিরে এসে ছয় শিক্ষার্থীর বাসায় অ্যাডমিট কার্ড পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করি।
শিবগঞ্জ সরকারি মোজাফফর হোসেন মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আসাদ জানান, বোর্ড থেকে প্রবেশপত্র আসার পর তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হয়েছে। শনিবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য কেন্দ্রে সব ধরনের যথাযথ ও সন্তোষজনক ব্যবস্থা করা হয়েছে।

