ভারতের অযোধ্যার রাম মন্দিরে দান হিসেবে পাওয়া স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাতের ঘটনায় চুরি হওয়া অলঙ্কার গলিয়ে স্বর্ণের বিস্কুটে রূপান্তর করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখছে বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি)। একাধিক তল্লাশি অভিযানেও নিখোঁজ অলঙ্কার উদ্ধার না হওয়ায় তদন্তকারীদের এ সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, কর্মকর্তাদের ধারণা, চুরি হওয়া স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কার গলিয়ে ফেলা হয়ে থাকতে পারে, যাতে সেগুলোর মূল পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি এখন বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে এসআইটির সদস্যরা রাম মন্দির পরিদর্শন করে রামলালার পূজা দেন। পরে তারা মন্দিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেডি বাবুর সঙ্গে বৈঠক করে অলঙ্কার ও ভক্তদের দেওয়া মূল্যবান দানের তালিকা, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন।
এ ছাড়া তদন্তকারীরা অলঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান দানের নথিপত্র এবং রাষ্ট্রায়ত্ত **প্রিন্টিং অ্যান্ড মিন্টিং করপোরেশন অব ইন্ডিয়া (মিন্ট)**-এর সঙ্গে হওয়া লেনদেনের তথ্যও সংগ্রহ করছেন। ব্যাংক ও মিন্টে পাঠানো স্বর্ণ-রুপাসহ মূল্যবান ধাতুর পূর্ণাঙ্গ হিসাব যাচাই করে পুরো প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
সূত্রগুলোর দাবি, তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের ত্রৈমাসিক বৈঠকে নগদ অনুদান ও আয়ের হিসাব নিয়মিত পর্যালোচনা করা হলেও স্বর্ণ, রুপা ও অন্যান্য মূল্যবান দানের পরিমাণ, মূল্যায়ন এবং মজুদের বিস্তারিত তথ্য নিয়মিত আলোচনার বিষয় ছিল না।
তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে ভক্তদের দেওয়া মূল্যবান ধাতুর গুণগত মান ও পরিমাণ যাচাইয়ের অংশ হিসেবে ট্রাস্ট ৯ দশমিক ৪৪ কুইন্টাল (৯৪৪ কেজি) রুপা পরীক্ষা ও গলানোর জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত মিন্টে পাঠিয়েছিল। ট্রাস্টের সাবেক সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায় এর আগে জানিয়েছিলেন, মন্দিরে অনুদান হিসেবে প্রায় ১৩ কুইন্টাল রুপা এবং প্রায় ২০ কেজি স্বর্ণ জমা পড়েছে।
গত ৭ জুন দানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসার পর উত্তর প্রদেশ সরকার একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ২৫ জুন এফআইআর দায়ের করা হয়। এ পর্যন্ত দান গণনার সঙ্গে জড়িত আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সম্প্রতি মামলার প্রধান অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্লাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে অযোধ্যা পুলিশ। দান গণনার কাজে যুক্ত থাকা শুক্লাকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি নগদ অর্থ তার কাছ থেকেই উদ্ধার হয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। কংগ্রেস ট্রাস্ট গঠনের আগে সংগৃহীত মন্দিরের অনুদানের প্রকাশ্য হিসাব প্রকাশ এবং পুরো ঘটনার তদন্তে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধান দাবি করেছে। অন্যদিকে আরএসএস বলেছে, কথিত এই চুরির ঘটনায় ভক্তদের বিশ্বাসে গভীর আঘাত লেগেছে। একই সঙ্গে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

