ইরান যুদ্ধ চলাকালে আমিরাতে আয়রন ডোম ও সেনা পাঠিয়েছিল ইসরায়েল

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৬, ১৬:০২

ইরান যুদ্ধ চলাকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইসরায়েলি সেনা ও আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর তথ্য নিশ্চিত করেছে তেল আবিব। ইসরায়েলের পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস প্রথম এই খবর প্রকাশ করে। পরে সে বিষয়টি সিএনএনকে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি সূত্র। ২০২০ সালে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছিল ইসরায়েল–আরব আমিরাত। তবে দুই দেশের মধ্যে এমন সামরিক সহযোগিতা নজিরবিহীন।

ইসরায়েলের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের (এমবিজেড) সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পরই ইউএইতে আয়রন ডোম ব্যাটারি ও ইন্টারসেপ্টর পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইরান উপসাগরীয় দেশটির দিকে যে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, সেগুলো এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়।

এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বাইরে প্রথমবারের মতো আয়রন ডোমের বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার। এর আগে সিঙ্গাপুর আয়রন ডোম কিনে পেয়েছে বলে জানা গিয়েছিল এবং রোমানিয়াও এটি পাওয়ার পথে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ছয় সপ্তাহ যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি চলছে। আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের সময় উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য যেকোনো দেশ-এমনকি ইসরায়েলের তুলনায় বেশি ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল তারা।

আরব আমিরাতের দাবি, দেশটিতে ৫৫০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২০০টির বেশি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছিল ইরান। যদিও তারা ৯০ শতাংশের বেশি হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

ইসরায়েলের তৈরি আয়রন ডোম ভ্রাম্যমাণ ও স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এটি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রকেট, মর্টার, কামানের গোলা ও ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম। ইসরায়েল এর আগে বিদেশে এই ব্যবস্থা বিক্রি করেছে। তবে অন্য কোনো দেশে এটি মোতায়েন করে যুদ্ধে ব্যবহারের ঘটনা এটিই প্রথম।

ইত্তেফাক/এসএইচ