কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাণ্ডব চালাতে পারে ‘অতি বিপজ্জনক’ টাইফুন 

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৬, ১৭:০৯

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছে শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘বাভি’। সম্ভাব্য ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে রোববার (৫ ‍জুলাই) থেকেই বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে শুরু করেছেন এবং স্থানীয় প্রশাসন জরুরি প্রস্তুতি জোরদার করেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঝড়টি এ অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, সোমবার (৬ ‍জুলাই) ভোরে টাইফুনটির মূল আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়ের স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ২৬০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতি ৩১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এ কারণে এটিকে ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনের সমতুল্য এবং ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

টাইফুনের প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হওয়া এবং সর্বোচ্চ ৩৫ ফুট উচ্চতার ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে এনডব্লিউএস। এতে অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঝড়ের আগমনের আগে বাসিন্দারা ঘরবাড়ি সুরক্ষিত করতে জানালায় প্লাইউড লাগাচ্ছেন, প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধ মজুত করছেন এবং অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্র বা নিরাপদ হোটেলে চলে যাচ্ছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

গুয়ামে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার এবং নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের বসবাস। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় গুয়ামে পাঁচটি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (ফেমা) আগেভাগেই সেখানে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, জেনারেটরসহ জরুরি ত্রাণসামগ্রী মজুত করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং এল নিনো পরিস্থিতির প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়গুলো আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে, যা ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

ইত্তেফাক/এসজেএস