জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ায় এখন থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে সভা-সমাবেশের অনুমতি না দিতে পুলিশ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তিনি রাজনৈতিক দল ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের আচরণ বিধিমালা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রচারণা চালানো যাবে না। জাতীয় নির্বাচনে যেসব কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে সেসব কেন্দ্রে সেনা সদস্য মোতায়েন করা হবে বলেও জানান সচিব। গতকাল শনিবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসি সচিব বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রচার-প্রচারণা, মিছিল, মিটিং করা নিষিদ্ধ। কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি প্রতীক বরাদ্দের আগে নির্বাচন ঘিরে প্রচার চালিয়ে থাকলে তা আচরণ বিধিমালার লঙ্ঘন হবে। আমরা সকল রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়ে বলেছি, প্রয়োজনীয় সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়ার জন্য। ম্যাজিস্ট্রেটরা আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন। তিনি বলেন, পুলিশ কর্তৃপক্ষকে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দল আর সভা সমাবেশ না করে। আমাদের পক্ষে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আইজিপিকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোথাও যেন সহিংসতার ঘটনা না ঘটে। প্রতীক বরাদ্দের আগে কেউ প্রচারণা না চালায়। এ সময় তিনি আচরণ বিধিমালা মেনে চলতে রাজনৈতিক দলগুলোকে অনুরোধ জানান।
আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহে মিছিল এবং ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, আমাদের দেশে ভোট মানে একটা উত্সব। আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী প্রচার—প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে করা যাবে না। কিন্তু নমিনেশন পেপার নেওয়া ও জমা দেওয়া একটা লিমিটেড এরিয়ার মধ্যে হচ্ছে। সুতরাং ওখানে যে আচরণ বিধিমালা ভঙ্গ হচ্ছে সেটা আমাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না।
ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেহেতু তাদেরকে আগেই কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিয়েছে। নেতৃবৃন্দও আগ থেকে রাজশাহীতে অবস্থান করছিলেন, স্বাভাবিকভাবে এটা নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে এই অনুমতিটা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আশা করব, যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন তারা যেন আচরণবিধি মেনে চলেন। আচরণবিধি প্রতিপালনে রিটার্নিং অফিসার ব্যবস্থা নিতে পারেন।
ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে সচিব জানান, আগামী ১২ নভেম্বর সোমবার রাজধানীতে ইভিএম মেলা হবে। ওই মেলায় সবদলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। কোনো দল যদি কারিগরি টিম পাঠিয়ে ইভিএম দেখতে চান তাহলে আমরা দেখাতে প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, ইভিএম কেন্দ্রগুলোতে এ বিষয়ে কথাবার্তা হচ্ছে, যেসব কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট হবে, আমাদের পরিকল্পনা আছে ওই কেন্দ্রগুলোতে সেনাবাহিনী রাখার। সেনাবাহিনী সেসব কেন্দ্রে অবস্থান করবে। এটা নিয়ে এখনো বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। এর বাইরে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে। নির্বাচনে ডিজিটাল প্রচারের বিষয়ে ইসির পরিকল্পনা থাকলেও এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
বিএনপির নির্বাচন পেছানোর দাবি সম্পর্কে তিনি বলেন, ইসি একটি তফসিল দিয়েছে। এখনও পর্যন্ত নির্বাচন তারিখ পেছানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। সবগুলো দল পেছানোর ব্যাপারে একমত হলে নির্বাচন পেছাবে কিনা, প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সব দল একমত হলে, কমিশন সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবে। এটি সম্পূর্ণ কমিশনের এখতিয়ার।
