কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় নালার পানিতে ডুবে দ্বিতীয় শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বড়ভিটা ও ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের মধ্যবর্তী একটি নালা থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলো- ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের রাবাইতারী গ্রামের নূর হোসেনের মেয়ে লুশি খাতুন (৯) এবং বড়ভিটা ইউনিয়নের নওদাবাস গ্রামের আনিছুর রহমানের মেয়ে আরশী (৮)। তারা দুজনই রাবাইতারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং সম্পর্কে চাচাতো-জ্যাঠাতো বোন।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়। পরে গভীর রাতে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার স্কুল শেষে বাড়ি ফিরে বিকেলে আরও কয়েকজন শিশুর সঙ্গে খেলতে বের হয় লুশি ও আরশী। সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের পরও তাদের কোনো সন্ধান না মেলায় উদ্বেগ বাড়ে।
পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয়রা বাড়ির পাশের একটি নালায় দুই শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে পরিবারকে খবর দেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, খেলাধুলার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত নালায় পড়ে গিয়ে পানিতে ডুবে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত লুশি খাতুনের বড় বোন লামিয়া খাতুন বলেন, ‘আমার সোনা বোনটি খুবই ভালো ছিল। এভাবে সে আমাদের ছেড়ে চলে যাবে, তা কখনো ভাবিনি। আল্লাহ যেন তাকে ভালো রাখেন।’
লুশি ও আরশীর খেলার সাথী সুমাইয়া খাতুন জানায়, বিকেলে তারা সবাই মিলে খেলাধুলার পাশাপাশি পাশের একটি ছোট পুকুরে গোসল করেছিল। পরে জানতে পারে, তার দুই খেলার সাথী নিখোঁজ। রাতেই বাড়ির পাশের নালা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত দুই শিশুর চাচি হাসিনা বেগম বলেন, ‘স্কুল থেকে ফিরে তারা একসঙ্গে খেলছিল। পরে আরও কয়েকজন শিশুর সঙ্গে পাশের ছোট পুকুরে গোসল করেছিল। আমি তাদের বকাঝকা করে দ্রুত বাড়ি ফিরতে বলি। পরে দেখি অন্য শিশুরা ফিরে এলেও লুশি ও আরশীকে পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির পাশের নালায় তাদের মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা মরদেহ উদ্ধার করেন।’
বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিন্টু বলেন, ‘এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। দুই শিশুর বাবা-মা শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।’ তিনি শিশুদের প্রাথমিক পর্যায়ে সাঁতার প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘সাঁতার শেখানো গেলে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।’
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাইম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে সহকারী পুলিশ সুপার (নাগেশ্বরী সার্কেল) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

