বৈরী আবহাওয়ায় হাতিয়ার নৌযোগাযোগ তিন দিন ধরে বন্ধ

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৬, ১৩:৪৪
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা ৩ দিন ধরে নোয়াখালীর মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সব ধরনের নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
 
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল পর্যন্ত নোয়াখালী, হাতিয়া ও সুবর্ণচরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে মেঘনা নদীর পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীতে তীব্র ঢেউ ও প্রচণ্ড স্রোত সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে চেয়ারম্যানঘাট-হাতিয়া নৌরুটে ফেরি, সি-ট্রাক ও স্পিডবোটসহ সব ধরনের ছোট-বড় নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
 
নৌ যোগাযোগ আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঘাটের উভয় পাড়ে কুরিয়ার সার্ভিস, জরুরি ওষুধ, শিশুখাদ্যসহ অন্তত ১০০টিরও বেশি মালবাহী ট্রাক আটকা পড়ে আছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকায় এসব ট্রাকে থাকা পচনশীল মালামাল ও জরুরি খাদ্যদ্রব্য নষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শত শত সাধারণ যাত্রী।
 
জেলা আবহাওয়া অফিস জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৩৫ মিলিমিটার পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর, উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
 
এদিকে উত্তাল মেঘনা ও সাগরের বৈরী পরিস্থিতির কারণে হাতিয়ার বুড়িরচর, জাহাজমারা এবং সুবর্ণচরের মেঘনা নদী সংলগ্ন ঘাটগুলোতে সাগরগামী মাছ ধরার বড় বড় ট্রলারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ফিরতে শুরু করেছে। অনেক ট্রলার এরই মধ্যে ঘাটে নোঙর করেছে।
 
নোয়াখালী হাতিয়া চেয়ারম্যান ঘাটের ম্যানেজার মো. শাহীন আলম জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রশাসনের নির্দেশে গত তিন দিন ধরে সব ধরনের নৌচলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নৌ চলাচল বন্ধ থাকবে এবং নদী উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
ইত্তেফাক/আইএ