বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ভরাডুবি নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি পেলে-কন্যার

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৬, ১১:১৮

বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলের পরাজয়ে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর ব্রাজিলের ফুটবল কাঠামো নিয়েই কঠোর সমালোচনা করেছেন কিংবদন্তি পেলের জ্যেষ্ঠ কন্যা কেলি নাসিমেন্তো।

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ব্রাজিলের ফুটবল ব্যবস্থার মূল সংকট মাঠে নয়, বরং প্রশাসনিক কাঠামোয়। তার ভাষায়,  ‘ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এটা দুর্নীতির কারণেই হোক বা অন্য কিছু। পুরো ব্যবস্থাটা যেন একটি বন্ধ ও আত্মকেন্দ্রিক পরিবেশে পরিণত হয়েছে। যার ভেতরে কী হচ্ছে, কেউ দেখতে পায় না। সবাই জানে কেন এটি কাজ করছে না, কিন্তু কেউই সেটি ঠিক করতে পারছে না।’

তার মতে, ব্রাজিলে প্রতিভাবান ফুটবলারের কোনো ঘাটতি নেই। এখনো দেশটি নিয়মিত বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি করছে। কিন্তু সেই প্রতিভাকে সফলভাবে কাজে লাগানোর মতো একটি কার্যকর ফুটবল কাঠামো গড়ে ওঠেনি। ফলে আন্তর্জাতিক আসরে দলটির ধারাবাহিক ব্যর্থতা কেবল মাঠের পারফরম্যান্সের সমস্যা নয়, বরং গভীর সাংগঠনিক দুর্বলতার প্রতিফলন।

কার্লো আনচেলত্তির অধীনে নতুন স্বপ্ন নিয়ে এবারের বিশ্বকাপে নামলেও ব্রাজিল সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। নাসিমেন্তো জানান, তার বাবা পেলে জীবদ্দশায়ও বারবার ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের প্রশাসনিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি ব্রাজিলের বর্তমান অবস্থার সঙ্গে ফ্রান্সের মতো দেশের তুলনা করে বলেন, ফ্রান্সের মতো দেশগুলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও শক্তিশালী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনেক বেশি কার্যকর ফুটবল কাঠামো তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

তবে পুরো চিত্রটিকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন না পেলে-কন্যা। তিনি মনে করেন, বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের পুনরুত্থান ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বোটাফোগোর নাম উল্লেখ করেন। মার্কিন ব্যবসায়ী জন টেক্সটর ২০২২ সালে ক্লাবটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দলটি নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো কোপা লিবার্তাদোরেস জয়ের পাশাপাশি ২৯ বছর পর ব্রাজিলিয়ান সিরি ‘আ’ শিরোপাও জেতে বোটাফোগো। একই বছর ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে ইউরোপিয়ান জায়ান্ট পিএসজিকে হারিয়ে চমক দেখায় দলটি।

জন টেক্সটরের পরিচালনা নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও নাসিমেন্তোর মতে, তার সবচেয়ে বড় অবদান হলো জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, ‘তিনি (টেক্সটর) যেভাবে ক্লাব পরিচালনা করছেন, তা নিয়ে অনেক সমালোচনা রয়েছে। কিন্তু প্রতিটি বিষয়েরই ভালো ও খারাপ দিক থাকে। তিনি অন্তত স্বচ্ছতা নিয়ে এসেছেন। তাকে একটি বিদেশি সংস্থার কাছেও জবাবদিহি করতে হয়। আমার কাছে সেটি ইতিবাচক, তার বিরুদ্ধে যা-ই অভিযোগ থাকুক না কেন।’

সূত্র: রয়টার্স

ইত্তেফাক/এসজেএস