উত্তরাঞ্চলে বাড়তে পারে বৃষ্টির দাপট, কমছে চট্টগ্রামে

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ১৩:৫৫

দেশের উত্তরাঞ্চলে আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা কমতে শুরু করেছে। পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকলে উপকূলীয় অঞ্চলে জারি করা সতর্কতা সংকেতও শিগগির প্রত্যাহার করা হতে পারে।

শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর আবহাওয়া অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ।

আগামী দুই থেকে তিন দিনে রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের তুলনায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টিপাত প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ কারণে চট্টগ্রাম ও উপকূলীয় এলাকায় আবহাওয়ার পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং সতর্কতা সংকেত তুলে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে আমবাগানে। এছাড়া যশোরে ৮৯ মিলিমিটার, বান্দরবানে ৮০ মিলিমিটার, রাঙামাটিতে ৭৭ মিলিমিটার, সিলেটে ৬৫ মিলিমিটার, রাজশাহীতে ৬২ মিলিমিটার, সাতক্ষীরায় ৬১ মিলিমিটার, হাতিয়ায় ৫৫ মিলিমিটার, ঢাকায় ৪৬ মিলিমিটার, আরিচায় ৪২ মিলিমিটার, সৈয়দপুরে ৩৭ মিলিমিটার, ভোলায় ৩৪ মিলিমিটার এবং চট্টগ্রামে ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার (১০ জুলাই) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছিল, টানা ভারী ও অতি ভারী বর্ষণের কারণে দেশের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আরও পাঁচটি জেলায় বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কার কথাও জানানো হয়।

বন্যা পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের হালদা, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, মুহুরী, ফেনী ও সেলোনিয়া নদীর পানি কমেছে। তবে একই সময়ে গোমতী নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরীসহ কয়েকটি নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে পারে। ফলে এসব নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতিরও ধীরগতিতে উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইত্তেফাক/এসজেএস