আমি যে শৈশব পাইনি, আমার ভাই যেন তা পায়: ইয়ামাল 

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৬, ০২:১৩

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে স্পেন। তবে ম্যাচে লামিন ইয়ামালের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে গ্যালারিতে থাকা তার মাত্র তিন বছর বয়সী ভাই কেইন। 

সোফাই স্টেডিয়ামে ক্যামেরা যখনই গ্যালারির দিকে ঘুরেছে, তখনই ছোট্ট কেইনের হাসি, উচ্ছ্বাস আর দুষ্টুমিভরা অভিব্যক্তি দর্শকদের নজর কেড়েছে। মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় তার ভিডিও।

কেইন ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ইয়ামালের মা শিলা এবানার ঘরে জন্মগ্রহণ করে। দুই ভাইয়ের মা এক হলেও বাবা ভিন্ন। ফলে তাদের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরেরও বেশি।

ইয়ামাল যখন ছোট ছিলেন, তখনই তার বাবা-মা আলাদা হয়ে যান। ইয়ামাল মূলত গ্রানোইয়ার্সে তার মায়ের কাছে বড় হয়েছেন। পরবর্তীতে তার মা আবার বিয়ে করলে কেইনের জন্ম হয়।

এই বয়সের ব্যবধানের কারণে ইয়ামাল তার ছোট ভাইকে এমন একটি ভিন্ন পৃথিবীতে বড় হতে দেখছেন, যা তার নিজের কাটানো কঠিন শৈশব থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ইয়ামাল বলেছেন, ‘আমি এমন একটি ঘর থেকে এসেছি যেখানে রান্নাঘর আর শোবার ঘর একই জায়গায় ছিল। আজ আমি আমার মাকে সুখী দেখছি। আমি দেখছি আমার ভাই সেই শৈশবটা পাচ্ছে যা আমি নিজে পেতে চেয়েছিলাম; আর এটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়।’

বিশ্বকাপে শেষ ১৬-র ম্যাচে দুর্দান্ত খেলে যখন ইয়ামাল ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ হন, তখন ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারে কোনো গোল বা কৌশল নিয়ে কথা বলেননি তিনি। তার পুরোটা জুড়ে ছিল ভাই আর পরিবার। ইয়ামাল আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছোট ভাইকে এতটা খুশি দেখতে পেয়ে আমি আবেগাপ্লুত। আমার মা এবং বন্ধুদেরও তাদের স্বপ্নের মতো জীবন কাটাতে দেখে খুব ভালো লাগছে। আমার ছোট ভাইই আমার সব। আমি তাকে প্রচণ্ড ভালোবাসি; মনে হয় সে যেন আমার নিজেরই সন্তান।’

ইত্তেফাক/জেডএইচ