এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো শক্তিশালী টাইফুনের কবলে পড়েছে চীন। ‘বাভি’ নামের এই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়টি দেশটির উপকূলে আছড়ে পড়ার পর এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর আগে ফিলিপাইনে এই ঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট ভূমিধসে ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে ঝড়টি কিছুটা দুর্বল হয়ে ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হলেও এর প্রভাবে ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও বন্যার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি।
শনিবার সন্ধ্যায় চীনের উপকূলীয় শহর তাইঝোতে প্রথম আঘাত হানে টাইফুন বাভি। প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত এই ঝড়টি মধ্যরাতে ওয়েনঝোতে দ্বিতীয় দফায় আঘাত হানে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়টি বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। রোববার সকালে এটি ঝেজিয়াং প্রদেশের হাংঝু শহরে পৌঁছায়। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সোমবার এটি আনহুই প্রদেশ হয়ে মঙ্গলবার নাগাদ শানডং উপদ্বীপ দিয়ে উত্তর পীত সাগরে (Yellow Sea) প্রবেশ করতে পারে।
টাইফুন বাভির প্রভাবে ঝেজিয়াং প্রদেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেখানে স্কুল, অফিস এবং সব ধরনের বহিরাঙ্গন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। বিমান ও রেল যোগাযোগেও পড়েছে এর প্রভাব; ইতোমধ্যে প্রায় ৪০০ ফ্লাইট এবং বেশ কিছু ট্রেন যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। ১ কোটি মানুষের শহর ওয়েনঝোতে ঝড়ের তাণ্ডবে ঘরবাড়ির ছাদ ও গাছের ডালপালা ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বেইজিং প্রশাসন সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে আরও ১ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
চীনের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার আগে বাভি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। গত সোমবার গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে ২৯০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানার সময় এটি ‘সুপার টাইফুন’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। পরবর্তীতে জাপানের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জে এর প্রভাবে অন্তত পাঁচজন আহত হন এবং হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তাইওয়ানে সরাসরি আঘাত না হানলেও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সেখানে ভূমিধসের আশঙ্কায় হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
দক্ষিণ চীন এখনো গত সপ্তাহের টাইফুন ‘মেসাক’-এর ক্ষত কাটিয়ে উঠতে পারেনি। মেসাকের প্রভাবে দেশটিতে অন্তত ৩৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং গবাদিপশু ও কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেই বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই বাভির এই আঘাত চীনের জন্য নতুন সংকটের সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় সুপারমার্কেটগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুত করার জন্য বাসিন্দাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।

