নাটোর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির উপ-সহকারী পরিচালক ডা. শাহাবুজ্জামানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে নাটোর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের সামনে এই ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, নাটোর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে সংলগ্ন সড়কে প্রতিষ্ঠানটির উপ-সহকারী পরিচালক ডা. শাহাবুজ্জামানকে কিছু লোক মারধর করছেন। এসময় তিনি দৌড়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে দেখা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রসব ব্যথা নিয়ে সদর উপজেলার আগদীঘা গ্রামের গৃহবধূ রুমি বেগমকে রোববার ভোরে নাটোর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ভর্তি করা হন। ভর্তি হওয়ার পর সকাল ৯টার দিকে গৃহবধূর নরমালে একটি ছেলে বাচ্চা প্রসব করেন। পরে বাচ্চাটির অবস্থার অবনতি হলে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাচ্চাটিকে মৃত ঘোষণা করেন। রোগীর স্বজনরা এ সময় চিকিৎসকের তত্বাবধায়ন না পাওয়ায় সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ শুরু করেন।
দুপুরের দিকে ঘটনার খবর পেয়ে তাদের আরও স্বজনরা হাসপাতাল চত্বরে জড়ো হয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একপর্যায়ে সেখানে বিষয়টি তদন্ত করতে আসেন উপ সহকারী পরিচালক ডা. শাহাবুজ্জামান। এসময় ঘটনাস্থলে থাকা বিক্ষুব্ধরা তাকে মারধর করে।
নিহত নবজাতকের বাবা অটোরিকশা চালক বাবু আলী বলেন, ‘এটা আমার প্রথম সন্তান। আমার সন্তানকে খুন করা হয়েছে। সময় মতো সঠিক চিকিৎসা পেলে আমার সন্তানকে বাঁচানো যেত। আমি এর বিচার চাই।’
তবে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে কেন্দ্রটির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা আবাসিক চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমান জানান, জাতীয় জনসংখ্যা দিবসের একটি সভা থাকায় তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ছিলেন। পরে হাসপাতালে এসে ঘটনাটি দেখে শিশুটি নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
হামলার শিকার উপ সহকারী পরিচালক ডা. শাহাবুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি শুনে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে গেলে নিহত নবজাতকের স্বজনরা আমার ওপর অতর্কিত হামলা করেন। পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে আমাকে মারধর করা হয়েছে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে আমি ঘটনাস্থল ত্যাগ করি।
নাটোর সদর থানার ওসি মনসুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার নেওয়া হবে।
নাটোর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর এ উপ পরিচালক আনোয়ারুল আজিম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে হামলার স্বীকার হয়েছেন উপ সহকারী পরিচালক সাহাবুজ্জামান। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। আলোচনা করে পরে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

