এসআরও বাস্তবায়নে ধীরগতি, চাপে লিথিয়াম ব্যাটারি শিল্প

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৩:২২

দেশে সৌরবিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) এবং উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পের বিকাশে স্থানীয়ভাবে লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদনকে উৎসাহ দিতে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে লিথিয়াম ব্যাটারি ও লিথিয়াম ব্যাটারি প্যাক উৎপাদন শিল্প গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল কম শুল্কে আমদানির সুযোগ দিয়ে সম্প্রতি এসআরও-১৬৬ জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে সরকার ঘোষিত এই সুবিধা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষও এনবিআরের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে।

তবে শিল্পোদ্যোক্তাদের অভিযোগ, নীতিগত এ সুবিধা বাস্তবে পেতে গিয়ে তারা দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়ছেন। আবেদন করার পরও কাস্টমস প্রসিডিউর কোড (CPC) পেতে দীর্ঘ সময় লাগছে। ফলে বন্দরে কাঁচামাল আটকে থাকায় ডেমারেজ, গুদাম ভাড়া ও ব্যাংক সুদের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এতে নতুন শিল্পে বিনিয়োগ এবং উৎপাদন শুরু অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে বলে দাবি তাদের।

চলতি বছরের ৮ জুন কার্যকর হওয়া এসআরও অনুযায়ী, লিথিয়াম-আয়ন, সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি এবং লিথিয়াম ব্যাটারি প্যাক উৎপাদনে ব্যবহৃত নির্ধারিত কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও উপকরণ কম শুল্কে আমদানির সুযোগ রয়েছে। এ সুবিধা পেতে প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের নিবন্ধিত ও অনুমোদিত উৎপাদনকারী হতে হবে। এরপর এনবিআর কাস্টমস প্রসিডিউর কোড (CPC) বরাদ্দ দিলে শুল্ক সুবিধা কার্যকর হবে।

লিও আইসিটি কেবল পিএলসির বিপণন বিভাগের কর্মকর্তা রেজাউল হক বলেন, সরকারের এ উদ্যোগ শিল্পের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। কিন্তু এসআরও জারি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন থাকার পরও যদি এ সুবিধা পেতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে বিনিয়োগের ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। তিনি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সিপিসি বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সংশ্লিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তাদের মতে, এসআরও বাস্তবায়নে প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে সম্ভাবনাময় এ খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত আবেদন নিষ্পত্তি না হলে সরকারের নীতিগত প্রণোদনার সুফলও কাঙ্ক্ষিতভাবে পাওয়া যাবে না।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক ঊর্ধ্বতন কাস্টমস কর্মকর্তা বলেন, এসআরও অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ধরনের নথিপত্র দাখিল করতে অনেক সময় আমদানিকারকদের কিছুটা বিলম্ব হয়। সে কারণেই সিপিসি (CPC) ইস্যু করতেও কিছুটা সময় লাগতে পারে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করার পরই সিপিসি প্রদান করে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাছান মাহমুদ টুকু বলেন, সরকার সম্ভাবনাময় একটি শিল্পের জন্য বড় নীতিগত সহায়তা দিয়েছে। এখন প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে আবেদন নিষ্পত্তির গতি বৃদ্ধি করা। তাহলে নীতিগত প্রণোদনা দ্রুত বাস্তব বিনিয়োগে রূপ নেবে, স্থানীয় শিল্প গড়ে উঠবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

শিল্প ও অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বৈদ্যুতিক যানবাহন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং শক্তি সংরক্ষণ প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ অনেকাংশে লিথিয়াম ব্যাটারিনির্ভর। তাই শুধু নীতিমালা ঘোষণা করলেই হবে না; এর কার্যকর ও দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক ব্যাটারি উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সক্ষম হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি