যশোরের বাঘারপাড়ায় রুবেল হোসেন (৩৮) নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে মরদেহ নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন দলীয় নেতাকর্মী, স্বজন ও এলাকাবাসী।
সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার খাজুরা বাজার তেলপাম্পে এলাকায় যশোর-মাগুরা মহাসড়কে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়। এতে নিহত রুবেলের প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় বিক্ষুদ্ধ জনতা ও নেতাকর্মীরা রুবেল হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আটক ও শাস্তির দাবি জানান।
পরে বিক্ষুদ্ধ জনতা তেলীধান্যপুড়ার বাসিন্দা রাব্বিকে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত দাবি করে তার বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্য আগুন ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
নিহত রুবেল বন্দবিলা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পেশায় একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যানের চালক ছিলেন। তিনি উপজেলার তেলীধান্যপুড়া গ্রামের মোনতাজ ঢালীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে রুবেল বাইরে থেকে কাভার্ডভ্যান চালিয়ে খাজুরায় আসেন। কাভার্ডভ্যানটি যশোর-মাগুরা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে খাজুরা তেলপাম্পে রেখে পাশের বাড়িতে যান। পরে সেখান থেকে তেলপাম্পের দিকে যাওয়ার সময় খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের সামনে পৌঁছালে রুবেলের পথ রোধ করেন তার বোনের দেবর একই গ্রামের রাব্বিসহ (২৫) তিন-চার জন। তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রাব্বি ছুরি দিয়ে রুবেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে সেখান থেকে পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় রুবেলকে উদ্ধার করেন। দুপুর ১২টার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত রুবেলের মা ফিরোজা বেগম আহাজারি করে বলেন, প্রায়ই স্থানীয় বখাটে নিয়ে রাব্বি তেলীধান্যপুড়া উলুমুল হাফেজিয়া কুরআন মাদরাসা মাঠে আড্ডা দিতো। একদিন মাদরাসার হুজুর রাব্বিকে এখানে আড্ডা দিতে নিষেধ করে। রাব্বি হুজুরের নিষেধ না শুনে উল্টো হুজুরকে নানা আজেবাজে কথা বলে হুমকি দেয়।
বিষয়টি জানতে পেরে রুবেল রাব্বিকে চড় মারেন। সেই থেকে রাব্বির রুবেলের প্রতি ক্ষোভ জন্মায় ও প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিতো। সেই প্রতিশোধ হিসেবে রাব্বি ধারালো অস্ত্র দিয়ে রুবেল হোসেনের বুকে, পিঠে ও মুখে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত রুবেলের ভাই রাজিব হোসেন জানান, রুবেলকে মারতে রাব্বির সঙ্গে আরও দুই থেকে তিনটি মোটরসাইকেল এসেছিল।
বাঘারপাড়া থানার ওসি শাহজালাল আলম বলেন, হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত ঘটনার পর থেকে পলাতক। তাকে ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

