উত্তর আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ দক্ষিণ এশীয় সাংস্কৃতিক আয়োজন ২৪তম টিডি ফেস্টিভ্যাল অব সাউথ এশিয়া ২০২৬ শেষ হয়েছে। গত রোববার (১২ জুলাই) কানাডার টরন্টোর ঐতিহাসিক জেরার্ড ইন্ডিয়া বাজার (লিটল ইন্ডিয়া) এলাকায় দুই দিনব্যাপী এ উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।
দুই দিনের এ আয়োজনে দক্ষিণ এশিয়ার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, শিল্প, সংগীত ও রন্ধনশৈলীর বর্ণাঢ্য মিলনমেলা বসে। উৎসবে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন ছিল দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ। সেখানে ছিল উপচে পড়া ভিড়।
উৎসবজুড়ে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাজারো দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর ছিল জেরার্ড স্ট্রিট। প্রতিবছরের মতো এবারও স্ট্রিট ফেস্টিভ্যালে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। এবারের আয়োজনে তিনটি মঞ্চে ৩০০-এর বেশি শিল্পী ও পরিবেশক অংশ নেন। বলিউড, ভাংড়া, কাওয়ালি, লোকসংগীত, শাস্ত্রীয়, ফিউশন এবং সমসাময়িক দক্ষিণ এশীয় সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।
উৎসবের উল্লেখযোগ্য দিক ছিল টরন্টো সিটির মেয়র অলিভিয়া চাওয়ের উপস্থিতি। তিনি উৎসবের দুই দিনই মেলায় অংশ নেন। দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে উভয় দিন শাড়ি পরিধান করেন, যা দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তার এ উদ্যোগ বাংলাদেশি, ভারতীয়, পাকিস্তানি ও অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির সদস্যদের প্রশংসা কুড়ায়।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন। সেখানে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, হস্তশিল্প, দেশীয় পোশাক, ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা স্থান পায়। নতুন শিল্পীদের জন্য আয়োজিত ‘ইমপ্রম্পটু স্টেজ’ দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। পাশাপাশি শিশু ও পরিবারের সদস্যদের জন্য ছিল ‘সকার ম্যানিয়া’, বিভিন্ন ইন্টারঅ্যাকটিভ আয়োজন, সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী এবং হেরিটেজ টরন্টোর ইতিহাসভিত্তিক প্রদর্শনী। এছাড়া কুলিনারি অ্যাডভেঞ্চারস কো.-এর উদ্যোগে আয়োজিত গাইডেড ওয়াকিং ট্যুরও দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।
বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের সমন্বয়কারী লামিমা তাসমিন জানান, ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো এ উৎসবে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন অংশ নিয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়। বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, শিল্প, সংগীত এবং দেশীয় খাবার দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত জেরার্ড ইন্ডিয়া বাজার বিজনেস ইমপ্রুভমেন্ট এরিয়া (বিআইএ)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসব উত্তর আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ দক্ষিণ এশীয় সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর এ উৎসব দক্ষিণ এশিয়ার সংস্কৃতি ও ব্যবসাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

