‘চট্টগ্রাম ছাড়া সব বোর্ডে যথাসময়ে পরীক্ষা চলবে’

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬, ১৫:২৯

বন্যা ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। অন্যদিকে, বৈরী আবহাওয়ায় পরীক্ষা নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ১০টায় সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রীও ভার্চুয়ালি অংশ নেন।

বৈঠক শেষে দুপুর দেড়টার দিকে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আপাতত চট্টগ্রাম ছাড়া সব বোর্ডে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে চট্টগ্রামের পাঁচ জেলার পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।

এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজন এবং পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে সম্বোধনের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব, উত্তরা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করেন।

নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব জানান, শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব এলাকায় মিছিল নিয়ে সড়কে অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করে।

অন্যদিকে উত্তরা পশ্চিম থানার ডিউটি অফিসার শাহীন আলম বলেন, সকাল প্রায় পৌনে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিএনএস সেন্টারের সামনে বিক্ষোভ শুরু করলে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

এদিন সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব মোড়ে ধানমন্ডিমুখী সড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেক যাত্রীকে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সায়েন্সল্যাবসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।

বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘দফা এক, দাবি এক—মিলনের পদত্যাগ’, ‘ভোগান্তির দায় নিতে হবে’ এবং ‘বন্যা-জলাবদ্ধতায় পরীক্ষা নয়’—এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের হাতে পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ডও ছিল।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বন্যা ও জলাবদ্ধতার বাস্তবতা বিবেচনা না করেই সোমবারের এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। কোথাও জলাবদ্ধতা, কোথাও দীর্ঘ যানজট, আবার কোথাও বিকল্প উপায়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে। অনেকেই নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে বাসা থেকে বের হয়েও সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে হিমশিম খেয়েছেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী কাশেম শেখ বলেন, বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না করেই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই তারা কর্মসূচি পালন করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটি কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, সোমবারের ভোগান্তির দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এড়াতে পারে না। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

 

ইত্তেফাক/এসএ