বন্যা ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। একই সঙ্গে সংগঠনটির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় পরীক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে নৈতিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সংগঠনটির সার্চ কমিটির সদস্য লোকমান হোসেন লিমনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারাদেশে চলমান বন্যা পরিস্থিতি এবং দুর্যোগকবলিত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বাস্তব সংকট উপেক্ষা করে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত না করায় দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ ও যৌক্তিক আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভাষ্য, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মানসিক সুস্থতা এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কিন্তু বন্যাকবলিত এলাকার অনেক শিক্ষার্থী যাতায়াত সংকট, শিক্ষাসামগ্রী নষ্ট হওয়া এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার মতো নানা বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়া তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের শামিল।
সংগঠনটি জানায়, তারা সারাদেশের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে এবং তাদের উত্থাপিত দাবিগুলোর প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে।
একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহানগর, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, থানা ও ইউনিট কমিটির নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় পরীক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত কর্মসূচিতে সর্বাত্মক নৈতিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের সহিংসতা, ভাঙচুর, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে—এমন কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।
এদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ এবং বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা।
বিজ্ঞপ্তির শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং সমান সুযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট সব পরীক্ষা স্থগিত করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নতুন সময়সূচি ঘোষণা এবং শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ নিশ্চিত করা উচিত।

