বিশুদ্ধ মননে প্রয়োজন, ইমাম বোরহানুদ্দীন অধ্যয়ন—এই প্রতিপাদ্যে গত ৪ আগস্ট ২০১৯ নেদায়ে ইসলাম রিসার্চ সেন্টারের আয়োজনে ঢাকা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে অনুষ্ঠিত হলো ‘সুফিদের বিজ্ঞান ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার ও গুণীজন সম্মাননা-২০১৯। এতে সভাপতিত্ব করেন ড. আনিসুজ্জামান, উপাচার্য, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. এম শমশের আলী, প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেদায়ে ইসলামের চেয়ারম্যান-আল্লামা শায়খ মোশতাক আহমাদ, পীর সাহেব, উয়েসীয়া শরীফ, ফরাযীকান্দী, চাঁদপুর।
লতিফায়ে খ্বলার ওপর গবেষণার জন্য Neda-e-islam Lifetime Achievement Award- 2019 গ্রহণ করেন প্রফেসর ড. এম শমশের আলী। সেমিনারে খ্বলা লতিফার ওপর প্রফেসর ড. এম শমশের আলীর লিখিত গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘সুফিদের বিজ্ঞান ভাবনা ও বিজ্ঞানের আলোকে তরীকায়ে আহমাদীয়ার লতিফায়ে খ্বলা’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। ইমাম বোরহানুদ্দীন অ্যাওয়ার্ড-২০১৯ গ্রহণ করেন সুফি সাইফুল মালেক (ক্যাটাগরি-আধ্যাত্মিকতা ও সমাজ সেবা) এর পক্ষে আব্দুল মুয়িদ (এম.ডি-প্রাইড গ্রুপ), ড. আ র ম আলী হায়দার মুর্শিদী (ক্যাটাগরি-সুফি তাত্ত্বিক গবেষণা), অধ্যাপক হাসান আব্দুল কাইউম (ক্যাটাগরি-সুফি তাত্ত্বিক গবেষণা), প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ (ক্যাটাগরি-সুফি তাত্ত্বিক গবেষণা) ও আবদুল্লাহ যোবায়ের (ক্যাটাগরি-ইউথ আইকন)। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের প্রফেসর ড. শাহ কাউসার মুস্তফা মুনএমী আবুলউলায়ী (পীর সাহেব, আবুলউলায়ী খানকা শরীফ, কিশোরগঞ্জ), যুগের ফররুখ কবি মাওলানা রুহুল আমিন খান (নির্বাহী সমপাদক, দৈনিক ইনকিলাব), আবু আহমাদ মুহাম্মাদ আইনুন নাঈম (পীর সাহেব, সালাম আবাদ জামালপুর), শায়খ আশফাক আহমাদ (পীর সাহেব, হাশিমপুর, চাঁদপুর), ডা. মুহাম্মদ আমীরুল ইসলাম (প্রাক্তন প্রিন্সিপাল, বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ, ডেন্টাল ইউনিট), আহমদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী (সহকারী অধ্যাপক, আরবী বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও খতিব সুপ্রিম কোর্ট মাজার জামে মসজিদ) প্রমুখ।
বক্তারা ইলমে তাসাউফ, সুফি দর্শন ও ইমামুত্ব ত্বরীক্বত আল্লামা শায়খ মুহাম্মাদ বোরহানুদ্দীন উয়েসী (রা) এর আধ্যাত্মিকতা ও দর্শন সম্পর্কে জ্ঞানগর্ভ ও প্রাণবন্ত আলোচনা করেন। ড. আনিসুজ্জামান বলেন-‘শায়খ বোরহানুদ্দীন (রহ) যেমন উচ্চরের সুফি সাধক ছিলেন অন্যদিকে ছিলেন সফল সমাজ সংস্কারক। তার আধ্যাত্মিকতা ও সমাজ দর্শন নিয়ে আরো বেশি গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। নেদায়ে ইসলাম নামক সেবা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে তিনি আর্ত মানবতার সেবায় এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। তিনি ছিলেন উত্তরাধুনিক চিন্তাশীল ব্যক্তিত্ব। তার নামানুসারে প্রতিষ্ঠিত ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজ শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।’
ড. এম শমশের আলী বলেন-‘শায়খ বোরহানুদ্দীন (রহ)-এর লতিফায়ে খ্বলার আবিষ্কার ইলমে তাসাউফের জগতে যেমন অনন্য অর্জন তেমনি বিজ্ঞানের আলোকে এর গভীর তাত্পর্য রয়েছে। সভাপতির ভাষণ শেষে উয়েসীয়া শরীফের পীর সাহেব আল্লামা শায়খ মোশতাক আহমাদ (মা.জি.আ)র মোনাজাতের মাধ্যমে সেমিনার ও গুণীজন সম্মাননা অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।
