অনৈতিকপন্থায় পশু মোটাতাজাকরণ দণ্ডনীয় অপরাধ এবং ইসলামের দৃষ্টিতে বর্জনীয়। কোরবানির পশুর ক্ষেত্রে ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতার দায়িত্ব বেশি। সুরা জুমাআ’য় বলা হয়েছে ‘ওয়া জারুল বা’য়’ অর্থাত্ ‘বিক্রয় বন্ধ কর’। আরবি ‘বা’য়’ অর্থ বিক্রয়। এতে বোঝা যায়, ক্রেতা কী করবে তা বিবেচ্য নয়। বিক্রেতাকে মহান আল্লাহ্র হুকুম পালনের জন্য বিক্রয় বন্ধ করতে হবে। বিক্রেতা বিক্রি বন্ধ করলেই তো ক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।
উত্পাদন পর্যায়ে অনৈতিকপন্থায় পশু মোটাতাজাকরণ বন্ধ করা জরুরি। কেননা, কোরবানির পশু মহান আল্লাহ্র অনুগ্রহ ও সৃষ্টি নৈপুণ্যের নিদর্শন :কোরবানির উট গরুকে আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর নিদর্শনস্বরূপ বানিয়েছি’ (হজ :৩৬)। কোরবানির কথা চিন্তায় রেখে পশু প্রতিপালন, মোটাতাজাকরণ একটি এবাদতমুখী সেবা। তবে অধিক লাভের মোহে নিরীহ, ‘বোবাপ্রাণি’কে কষ্ট দেওয়া বা মৃত্যুঝুঁকিতে ঠেলে দেওয়া ধর্মীয় দৃষ্টিতে বর্জনীয়। যেমন:গ্রোথ হরমোন, ডাইক্লোফেনাক, অনুমোদনহীন স্ট্রেরয়েড ব্যবহার, সনদপ্রাপ্ত চিকিত্সকের লিখিত পরামর্শ ছাড়া যখন তখন পশুকে ওষুধ ও প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য দেওয়া ইত্যাদি। এছাড়াও অভিযোগের তালিকায় আছে তথাকথিত তুলা, ট্যাবলেট, ইঞ্জেকশন, ভিটামিন, পোলট্রি ফিড বা ব্রয়লার মুরগির খাবার, ইউরিয়া সারের অপপ্রয়োগের ঘটনা।
মোটাতাজা-করণের নামে পশুর প্রকৃতিগত গুণ, বৈশিষ্ট্য বা আকৃতি বদলে ফেলা, যেমন- প্লায়ার্স দিয়ে পশুর দাঁত তুলে ফেলে বয়স প্রমাণের চেষ্টা, রঙ বদলে দেওয়া, পশুর হূদপিণ্ড, কলিজা, ফুসফুস, কিডনি বিকল করে ফেলে এমন ওষুধ প্রয়োগ করা হারাম ও প্রতারণা। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্র সতর্কবাণী ‘বিনাস ও বিপর্যয় ধোঁকাবাজদের জন্য...’ (মুতাফিফফিন: ০১)। প্রিয়নবী (স) বলেন, ‘যে প্রতারণা করে সে আমার দলভুক্ত নয়’ (মুসলিম)।
খলিফা ওমরের (রা) যুুগে এক বেদুইন একটি গরুর পিঠে বোঝা চাপালে গরুটি তা বহনে অস্বীকৃতি জানায়। মহান আল্লাহ্ গরুটিকে বাকশক্তি দিয়ে ছিলেন বলেই এটা সম্ভব হয়ে ছিল। আজো যদি এমন হতো, তবে কী হতো? প্রিয়নবী (স) বলেন, ‘যে দেহ হারামে গঠিত-পরিপুষ্ট তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। বরং জাহান্নামই তার উপযুক্ত ঠিকানা’ (বাইহাকী)।
হারাম উপার্জন ইবাদত ও দোয়া কবুলের অন্তরায়। মুসলিম শরিফে আছে, ‘এক মুসাফির আকাশের দিকে হাত তুলে ডাকছে :হে প্রভু! হে প্রভু... অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম, সে হারামের মধ্যে সবসময় অতিবাহিত করে। তবে তার দোয়া কিভাবে কবুল করা হবে?’ অন্যদিকে প্রিয়নবীর (স) সতর্কবাণীও মনে রাখা জরুরি- ‘মানুষের মাঝে এমন একটা কাল আসবে যখন লোকে কোনো পরোয়া করবে না যে, সে সম্পদ কোথা থেকে লাভ করল- হালাল উপায়ে না হারাম উপায়ে’ (বুখারি)।
lলেখক :সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান,
ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, গাজীপুর
