এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নের রাজনীতি কখনো সফল হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না।’
সোমবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের সাতমাথায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। ইতিহাস সাক্ষী, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবারই শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসের রাজনীতি থেকে বাংলাদেশকে বেরিয়ে আসতে হবে। বগুড়াকে এমন একটি জেলায় পরিণত করতে হবে, যেখানে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক, ধর্ষণ ও অন্যায়ের কোনো স্থান থাকবে না। পরিবর্তন কোনো এমপি মন্ত্রীর মাধ্যমে নয়, সাধারণ মানুষের হাত ধরেই আসবে।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদকের আসর চলছে। ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজির শিকার হলেও ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারছেন না। ভয় পাওয়ার একমাত্র সত্তা মহান আল্লাহ। অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে সবাইকে সাহসের সঙ্গে দাঁড়াতে হবে।
সীমান্ত পরিস্থিতি তুলে ধরে এনসিপির এই নেতা বলেন, ভারত সীমান্তে বাংলাদেশকে নিয়ে উসকানিমূলক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। সীমান্ত হত্যা, পুশইন ও দুর্নীতির মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সংসদে আলোচনা হতে না দেওয়াটা অত্যন্ত দুঃখজনক। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় এসব বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে।
তিনি বলেন, পেশিশক্তি, অস্ত্র ও ভয়ভীতির রাজনীতি থেকে বাংলাদেশকে বেরিয়ে আসতে হবে। নতুন বাংলাদেশ হবে ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও জবাবদিহিতার বাংলাদেশ। সেখানে কোনো নির্যাতিত মানুষ থাকবে না, কেউ না খেয়ে থাকবে না এবং দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সৎ, যোগ্য ও গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের নেতৃত্বে আনতে হবে। নির্বাচিত হওয়ার পর কেউ যদি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে বা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে এনসিপি তার দায় নেবে না বরং জনগণের পক্ষেই অবস্থান নেবে।
বগুড়াবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে নতুন প্রজন্মের ওপর আস্থা রাখুন। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণেই বৈষম্য, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

