উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে চীনে আটক মার্কিন ভূকম্পনবিদ

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ১৫:৫২

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে প্রায় দুই বছর ধরে চীনে আটক রয়েছেন এক মার্কিন ভূকম্পনবিদ (সিসমোলজিস্ট)। তার পরিবার অভিযোগ করেছে, তাকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) এপি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। 

‘গ্লোবাল রিচ’ নামের মার্কিন জিম্মি ও বন্দি অধিকার সংস্থার তথ্য অনুসারে, ৫৪ বছর বয়সী চেন ইউলিন ২০২৪ সালের নভেম্বরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে বেইজিংয়ে গিয়েছিলেন। সেখানেই তাকে আটক করা হয়। চীনা কর্তৃপক্ষ এখনও তাকে মুক্তি না দেওয়ায় পরিবার শেষ পর্যন্ত বিষয়টি জনসমক্ষে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

চেনের স্ত্রী রং ইউফাং নিজেও একজন ভূকম্পনবিদ। তিনি বলেন, তার স্বামী চীনা সহকর্মীদের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পুরোপুরি ভিত্তিহীন। যে উন্মুক্ত পরিবেশে তিনি গবেষণা করেছেন, তার সঙ্গে এসব অভিযোগের কোনো মিল নেই।

চেন ইউলিনের গবেষণার মূল বিষয় ছিল উত্তর কোরিয়া। চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ও ভূগর্ভস্থ পরীক্ষার কারণে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় আছে।

তার গবেষণা চীনের নিজস্ব পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, চীন নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার বাড়াচ্ছে এবং গোপনে পরীক্ষা চালাচ্ছে। বেইজিং অবশ্য এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

গত মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, তথাকথিত অন্যায় আটক বলে কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিচারিক কর্তৃপক্ষ আইন অনুসারে মামলা পরিচালনা করছে। চীনে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে।

বর্তমানে চেন ইউলিনই একমাত্র মার্কিন নাগরিক, যাকে যুক্তরাষ্ট্র অন্যায়ভাবে আটকে রাখা ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

রং ইউফাং গ্লোবাল রিচের মাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, ৬০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে আমার স্বামীর সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। তার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে আমি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, চীনা কর্তৃপক্ষ তার স্বামীকে তার কাজ নিয়ে ১০০ বারেরও বেশি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আটকের প্রথম ১৩ মাস তাকে আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতেও দেওয়া হয়নি।

চীনে জন্ম নেওয়া চেন ২০১১ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। তিনি বোস্টনে বাস করতেন। পারমাণবিক পরীক্ষা শনাক্তে ভূকম্প তথ্য বিশ্লেষণে তিনি বিশেষজ্ঞ ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত একাধিক প্রকল্পেও তিনি কাজ করেছেন।

রং ইউফাং বলেন, চীনা সহকর্মীদের সঙ্গে তার সব গবেষণাই সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ছিল। তিনি আরও বলেন, চীন সরকার যে ‘জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ’ (পিপল-টু-পিপল এনগেজমেন্ট) এর কথা বলে, আমার স্বামী ঠিক সেই কাজটিই করছিলেন।

তার একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাপত্র ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়। এতে চীনসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ভূকম্প তথ্য বিশ্লেষণ করে পারমাণবিক পরীক্ষা শনাক্ত ও বিস্ফোরণের শক্তি নির্ণয়ের পদ্ধতি উন্নয়নের চেষ্টা করা হয়।

গ্লোবাল রিচ জানিয়েছে, মার্কিন সরকারের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে যে, পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি (সিটিবিটি) লঙ্ঘন করে চীন গোপনে পরীক্ষা চালানোর কারণেই চেনকে আটক করা হয়েছে। তার দক্ষতা চীনকে আমেরিকার ভূকম্প শনাক্তকরণ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চেনের স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তিনি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চ কোলেস্টেরলে ভুগছেন।

এ ঘটনা প্রকাশের এক মাস আগে চীন মিয়ানমারভিত্তিক এক থিংক ট্যাঙ্কের পরিচালক ও মার্কিন গবেষক মিন জিনকেও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আটক করেছে।

ইত্তেফাক/এবিএস