মধ্যপ্রাচ্যের সব সমুদ্রপথ বন্ধ করার হুমকি দিল ইরান

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ১৬:৩১

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সুবিধা হয় এমন সব জ্বালানি রপ্তানির করিডর বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

আইআরজিসির এই হুমকির আগে ইরান হরমুজ প্রণালি নতুন করে বন্ধ করে দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর ফের অবরোধ আরোপ করেছে।

বুধবার আইআরএনএতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, আঞ্চলিক জ্বালানি রপ্তানির সুবিধা সবাই পাবে, নয়তো কেউই পাবে না।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান মূলত ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জ্বালানি পরিবহন পথই ঝুঁকিতে পড়বে।

সংকীর্ণ এই প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সৌদি আরবের তেল রপ্তানি এবং বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের বড় অংশ এই পথ দিয়েই হয়।

ইরানের প্রেস টিভির খবরে বলা হয়, গত সোমবার হুতিদের এক জ্যেষ্ঠ নেতা সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনে হামলা চালিয়ে যায় তাহলে তারা বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত। তিনি দাবি করেন, এমন হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।

এদিকে সোমবার সৌদি আরব হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিমানবন্দরে বোমা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে হুতিরা পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর মাধ্যমে চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেল।

হুতিরা আগেই প্রমাণ করেছে যে, বাব-এল-মান্দেব বন্ধ করে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যাহত করার ক্ষমতা তাদের আছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর তারা লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা চালিয়ে বিশ্ববাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করেছিল।

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার সক্ষমতা দুর্বল করতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা শুরু করার একদিন পরই আইআরজিসি এই নতুন হুমকি দিল।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, গত এক সপ্তাহে ইরান সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যাতে প্রায় এক ডজন নাবিক নিহত, নিখোঁজ বা আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার রাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালির আশপাশে এবং ইরানের উপকূলীয় এলাকায় কয়েক ডজন সামরিক স্থাপনায় টানা সাত ঘণ্টা ধরে হামলা চালিয়েছে।

আইআরজিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অশুভ তৎপরতা’ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন হতো।

ইরানের দাবি, হরমুজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

সূত্র: ফ্রান্স ২৪

ইত্তেফাক/এবিএস