বেশ কয়েক বছর ধরেই চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেটের কারসাজির অভিযোগ ছিল। কিন্তু এবারের অবস্থা অনেক বেশি শোচনীয়। এ বছর একটি গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, অথচ দেশে একজোড়া ব্রান্ডের চামড়ার জুতার দাম মানভেদে ৩০০০ থেকে ৬০০০ টাকা। একজন আক্ষেপ করে ফেসবুকে লিখেছেন, ১০০ টাকা রিকশাভাড়া পরিশোধ করে বাজারে গিয়ে ছাগলের চামড়া বিক্রি করেছেন মাত্র ২০ টাকায় এবং আরেকজন মনের ক্ষোভে গরুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে টুকরো টুকরো করে মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন। চট্টগ্রামে এক লাখ পরিত্যক্ত চামড়া সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত কর্মীরা ডাম্পিংয়ে ফেলে দিয়েছে, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার একটি মাদ্রাসা সংগৃহীত কোরবানির ৯০০ পশুর চামড়া বহু চেষ্টার পরও বিক্রি করতে না পেরে মাটিতে পুঁতে ফেলেছে এবং রাজশাহীতে ৪০০ ছাগলের চামড়া প্রতিটি মাত্র সাড়ে তিন টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে। এ ধরনের বহু খবর গণমাধ্যমে এসেছে। এ অবস্থা থেকে সহজেই অনুমেয়, চামড়াশিল্পের দুরবস্থা। বাণিজ্যমন্ত্রী কাঁচা চামড়া রপ্তানির কথা বলছেন আর ট্যানারি মালিকরা এর বিরোধিতা করছেন। যে কারণেই চামড়ার এই অবস্থা হোক না কেন, মূল সমস্যা চিহ্নিত করে এখনই যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিষয়টির প্রতি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মো. জিল্লুর রহমান
সতিশ সরকার রোড, গেন্ডারিয়া, ঢাকা
