নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ৩ লাখ মানুষের জন্য রয়েছে মাত্র পাঁচ জন ডাক্তার। গড়ে এক জন ডাক্তারকে ৬০ হাজার মানুষের চিকিত্সা দিতে হচ্ছে। উপজেলার চিকিত্সা সেবার একেবারেই নাজুক অবস্থা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২২ জন ডাক্তারের মঞ্জুরিকৃত পদ থাকলেও রয়েছে মাত্র পাঁচজন। আর একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার রয়েছে। তবে হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের কোনো কার্যক্রম নেই হাসপাতালে। এবং উপজেলার ১০টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১০ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও একজন ডাক্তারও নেই। এতে ৩২ জন ডাক্তারের বিপরীতে রয়েছে মাত্র ছয়জন ডাক্তার। আর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ ২৬ জন ডাক্তারের পদ শূন্য রয়েছে।
হাসপাতালে বর্তমানে কর্মরত আছেন আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. রায়হান বারী, জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. শাহ মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী-অবস) ডা. ওবায়দা নাসনীন মুক্তা, এমারজেন্সি মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. মোজাহেদুল করিম, মেডিক্যাল অফিসার (প্যাথলজি) ডা. তপন কুমার রায় ও মেডিক্যাল অফিসার হোমিওপ্যাথি) ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
এলাকাবাসী আইয়ুব আলী বলেন, ডোমারের সরকারি হাসপাতালে গেলে কোনো ডাক্তার পাওয়া যায় না। চিকিত্সাও তেমন হয় না। এ সুযোগে বেসরকারি ক্লিনিকগুলো যা ইচ্ছে তাই চিকিত্সা দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আর কোনো গর্ভবতী রোগী বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে চিকিত্সার জন্য গেলেই বাধ্যতামূলকভাবে সিজার করা হচ্ছে। কোনো ক্লিনিকে বছরে একটিও স্বাভাবিক প্রসব হয় না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. রায়হান বারী বলেন, আমরা মাত্র পাঁচজন ডাক্তার দিয়ে রোগীদের যথাসাধ্য চিকিত্সা দিতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। প্রতিমাসে ডাক্তার সংকটের তালিকা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাচ্ছি। তবে কোনো সুফল পাচ্ছি না। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত ডাক্তার প্রয়োজন।
