ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। টানা কয়েক দিনের এই আগ্রাসনে দেশটিতে অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে বুধবার (১৫ জুলাই) জানিয়েছে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
বন্দর আব্বাস ও চাবাহারসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় বারবার আঘাত হেনেছে মার্কিন বাহিনী। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে ইরান ও তার মিত্ররা। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইরানের ২০টির বেশি ড্রোন ও ৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে ইরাকের ইরবিলে মার্কিন কনস্যুলেট ও সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
এই উত্তেজনার মধ্যে নিরাপত্তা শঙ্কায় এয়ার কানাডা, এয়ার ফ্রান্স ও এজিয়ান এয়ারলাইন্সসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা দুবাই, রিয়াদ, বৈরুত ও তেল আবিবের ফ্লাইট বাতিল করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান এখন সমঝোতার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তেহরানকে সংযত আচরণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় আগ্রহী নয় তারা। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তার প্রতিশ্রুতি না রাখে তাহলে ইরানেরও সমঝোতা চুক্তি মেনে চলার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
এদিকে পরিস্থিতি আরও জটিল করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ইরান, রাশিয়া ও নাইজেরিয়ার কয়েকজন ব্যক্তি ও সংস্থার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে যাতে তারা আন্তর্জাতিকভাবে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে না পারে।

