বৃহত্তর সংঘাতে জড়াতে ভয় পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি ইরানের

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ২৩:৩৪

যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’ লঙ্ঘন এবং নিজেদের ভূখণ্ডে নতুন করে আগ্রাসনের অভিযোগ এনে হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধের হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে সরব হয়েছে তেহরান। ইরানি বিশ্লেষকদের দাবি, দেশটির সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি একীভূত কমান্ডের অধীনে কাজ করায় যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা এখন বহুমাত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম।

ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি ইরানের সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির মুখপাত্রদের মধ্যে এক বিরল যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে আইআরজিসিকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে আখ্যায়িত করার পশ্চিমা প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানায় সেনাবাহিনী। ইসলাম, বিপ্লব এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সব সশস্ত্র বাহিনীর ঐক্যবদ্ধ থাকার পাশাপাশি শত্রুপক্ষের প্রচারযুদ্ধ মোকাবিলায় সমন্বিত যোগাযোগ কৌশল বাস্তবায়নের বিষয়ে ওই বৈঠকে একমত হন কমান্ডাররা।

ইরানি সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সেনাবাহিনী এবং আইআরজিসি এখন আর আলাদাভাবে নয়, বরং একটি সমন্বিত সামরিক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। দ্রুতগতির নৌযান, সাবমেরিন, ড্রোন এবং উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্রের মতো আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো একই যোগাযোগ কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। ফলে প্রতিপক্ষকে এখন ইরানের বহুস্তরীয় প্রতিরোধের মুখোমুখি হতে হবে।

তাদের দাবি, প্রতিরোধ ব্যবস্থা তখনই সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়, যখন প্রতিপক্ষ বুঝতে পারে যে আক্রমণের খরচ তাদের সম্ভাব্য লাভের চেয়ে অনেক বেশি হবে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধের বিষয়টি ইরানের জন্য নতুন কোনো কৌশল নয় বলে জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রহিম সাফাভি। সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ২০১১-১২ সালে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশেই হরমুজ প্রণালি বন্ধের একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল। আইআরজিসির নৌ ও মহাকাশ বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডাররাও সেই পরিকল্পনা প্রণয়নে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

দেশটির বিশ্লেষকদের আরও দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দীর্ঘ দিন ধরে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের চেষ্টা করলেও তাতে সফল হয়নি। বরং সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তি ও সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে তেহরানের প্রতিরক্ষা শিল্প অনেক দূর এগিয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো বৃহত্তর সংঘাতে জড়ালে বড় ধরনের প্রতিরোধের মুখে পড়ার আশঙ্কায় শুধু দক্ষিণাঞ্চলেই তাদের আক্রমণ সীমিত রাখছে বলে মনে করেন ইরানি বিশ্লেষকরা।

হরমুজ প্রণালির মতো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ বন্ধের ঘোষণায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও উল্লিখিত সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থার দাবিগুলো মূলত ইরানের রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন, তবে এই ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এনএন