সৈয়দপুরের তিনটি বিনোদন পার্কে ঈদের দিন থেকে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এরমধ্যে পাতাকুঁড়ি ও থিম পার্ক আগেই চালু হয়েছে। নতুন করে গড়ে ওঠা রংধনু পার্ক দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। উত্তরের এই জনপদে বিনোদন পার্ক না থাকায় এতদিন রংপুরের ভিন্নজগত্ ও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে অবস্থিত স্বপ্নপুরীতে যেতেন।
পাতাকুঁড়ি বিনোদন পার্ক : উত্তর জনপদের ভ্রমণপিপাসু মানুষের জন্য তৈরি করা হয়েছে ‘পাতাকুঁড়ি’ নামে একটি বিনোদন কেন্দ্র। আর এটি হচ্ছে নীলফামারীর বাণিজ্যিক সৈয়দপুর উপজেলা শহরের কয়াগোলাহাটে। প্রায় ১৩ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ বিনোদন কেন্দ্রের কাজ পুরোদমে চলছে।
সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল থেকে সৈয়দপুর-দিনাজপুর বাইপাস সড়কের পাশে বিনোদন কেন্দ্রে প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে। বিকেল হলে শিশু-কিশোর ও নারী-পুরুষের ভিড়ে এরই মধ্যে জমজমাট হয়ে উঠেছে বিনোদন কেন্দ্রটি। প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
থিম পার্ক :শহরের ভেতরে ইসলামবাগ এলাকায় গড়ে উঠেছে থিম পার্ক। শহরের সন্নিকটে হওয়ায় পার্কটিতে ঈদের ছুটি ছাড়াও লোকজন পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসেন। ফলে জমজমাট হয়ে উঠেছে বিনোদন পার্কটি। এখানে শিশুদের খেলার প্রায় সব ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। আরো নতুন করে সাজানো হচ্ছে এটি। এখানে টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতিজন ৩০ টাকা।
রংধনু পার্ক :সৈয়দপুর শহর থেকে দিনাজপুর যাওয়ার পথে নর্দান কোল্ড স্টোরের পাশে চারিদিকে নদীবেষ্টিত অনেকটা দ্বীপের মতো জায়গায় এবার ঈদে উদ্বোধন করা হয়েছে রংধনু নামে একটি বিনোদন পার্ক। এই পার্কে শিশুদের বেশকিছু রাইড, সুইমিং পুল ও বসার বেঞ্চ স্থাপন করা হয়েছে। ঈদের দিন থেকে পার্কে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। প্রধান সড়ক থেকে সেতু বেয়ে পার্কে যাওয়ার বিষয়টি বেশ উপভোগ্য।
ভ্রমণপিপাসুদের দখলে আগৈলঝাড়ার পয়সারহাট ব্রিজ
আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, আগৈলঝাড়ায় উল্লেখযোগ্য বিনোদনকেন্দ্রের সুযোগ না থাকায় ঈদের বাড়তি আনন্দের জন্য ভ্রমণপিপাসু আর বিনোদনপ্রেমীদের দখলে ছিল সন্ধ্যা নদীর ওপর নির্মিত পয়সারহাট ব্রিজ।
এই ব্রিজটি একই সূত্রে গেঁথে রেখেছে বরিশালের আগৈলঝাড়া ও গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলাবাসীদের। ব্রিজের পূর্বপাড়ে আগৈলঝাড়া আর পশ্চিম পাড়ের অ্যাপ্রোস সড়কের পরেই কোটালীপাড়া উপজেলার সীমানারেখা।
ফলে নাড়ির টানে পরিবারের সঙ্গে ঈদে বাড়ি আসা ভ্রমণপিপাসু বিনোদপ্রেমী সকল বয়সী সকল ধর্মের লোকজনের মিলনমেলায় পরিণত করেছে। ঈদের সকল আনন্দ যেন এখানেই !
প্রতিদিনের পাশপাশি ঈদুল আজহার উপলক্ষ্যে সেখানে বসেছিল বিভিন্ন ধরনের দোকানপাটের পসরা। তবে পর্যটনের আনুষঙ্গিক সুবিধাগুলো না থাকা সত্ত্বেও আনন্দ উপভোগের কমতি ছিল না আগত ভ্রমণপিপাসুদের। ঈদের আগে ও পরের কয়েক দিন পর্যন্ত ব্রিজ এলকায় ছিল প্রশাসনের কঠোর নজরদারি। বিশেষ কোনো দিন ছাড়াও এই স্থানে প্রতিদিন বিকেলে শত শত নারী-পরুও শিশুরা সময় কাটাতে আসেন আগৈলঝাড়ার পয়সারহাট ব্রিজে।
